
Xabi Alonso JioStar Interview: প্রিমিয়ার লিগের (Premier League 2026-27) চলতি মরসুমে দুর্দান্ত শুরু করলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা ভাবাচ্ছে চেলসিকে (Chelsea FC)। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোল করার ক্ষেত্রে সাফল্য পেলেও গোল হজমের প্রবণতা কমাতে মরিয়া লন্ডনের (London) এই ক্লাব। দলের রক্ষণাত্মক সমস্যার কথা স্বীকার করে চেলসি ম্যানেজার জাবি আলোন্সো জানিয়েছেন, লিগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে গোল হজমের সংখ্যা কমাতেই হবে। নয় ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে চেলসি। চলতি মরসুমে ১৯টি গোল করলেও সমসংখ্যক ম্যাচে ১৫টি গোল হজম করেছে তারা। ফলে রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। জিওস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলোন্সো স্বীকার করেছেন, চেলসির রক্ষণে গোল হজমের পিছনে কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে দলের সংগঠিত রক্ষণ, খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং সম্মিলিত দায়িত্ববোধের উন্নতির মাধ্যমে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেই মনে করছেন তিনি।
চেলসির রক্ষণ প্রসঙ্গে আলোন্সো বলেছেন, 'আমাদের রক্ষণভাগ কেন এত বেশি গোল হজম করছে, তার পিছনে একটিমাত্র কারণ নেই। তবে এই জায়গায় উন্নতি করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আমি নিশ্চিত, আমরা সেটা পারব। আমরা সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছি এবং নিজেদের আরও উন্নত করছি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে হলে কম গোল হজম করতেই হবে। বল ছাড়া দলের অবস্থান এবং রক্ষণাত্মক কাঠামো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা যে গোলগুলো হজম করেছি, তার অনেকগুলিই ছোটখাটো ভুলের কারণে। প্রতিপক্ষ আমাদের রক্ষণ ভেঙে গোল করেছে, এমনটা নয়। এটা ইতিবাচক দিক, কারণ এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।' চেলসি ম্যানেজার আরও বলেছেন, 'দল হিসেবে আমাদের আরও জমাট হতে হবে, ব্যক্তিগত লড়াইয়ে জিততে হবে এবং লাস্ট থার্ডে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খেলোয়াড়েরা বিষয়টি জানে এবং নিজেদের দায়িত্ব নিচ্ছে। রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব শুধু চারজন ডিফেন্ডারের নয়। সামনে থেকে প্রেসিং করা এবং দ্রুত পিছনে ফিরে আসার মধ্য দিয়েই রক্ষণের কাজ শুরু হয়। একেবারে গোল না খাওয়া হয়তো অসম্ভব, কিন্তু গোল হজমের সংখ্যা কমানো অবশ্যই সম্ভব। পুরো দল এই জায়গায় উন্নতি করতে পারলে ক্লিনশিটও আসবে।'
রবিবার প্রিমিয়ার লিগে সান্ডারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে চেলসি। পয়েন্ট তালিকায় উপরের দিকে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাত্মক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই এখন আলোন্সোর দলের অন্যতম লক্ষ্য। দলের অন্যতম সেরা তারকা কোল পামারের সেরা পজিশন নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন চেলসি ম্যানেজার। তাঁর মতে, পামারকে সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানোই সবচেয়ে কার্যকর। এই পজিশন থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেন ইংল্যান্ডের এই তারকা। আলোন্সোর কথায়, ‘আমার মতে, কোল পামারের সেরা পজিশন হল সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের পিছনে এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের সামনে বল পেলে ও শেষ পাস দিতে পারে, ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে পারে, গোল করতে পারে এবং আক্রমণে দৌড়ে জায়গা তৈরি করতে পারে। দুই ডিফেন্স লাইনের মাঝের জায়গাতেই ও প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ফেলে।’ তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘ও এমনভাবে বল নিতে পারে, যাতে মুহূর্তের মধ্যে দু-তিনজন ডিফেন্ডারকে একটি পাসেই পরাস্ত করা সম্ভব। পাশাপাশি সঠিক সময়ে বক্সে পৌঁছনোর ক্ষমতাও রয়েছে ওর। এই গুণ খুব বেশি খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখা যায় না। তাই ওকে সঠিক জায়গায় বল পৌঁছে দিতে হবে। মিডফিল্ডার এবং ডিফেন্ডারদের দ্রুত ওর কাছে বল পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ ওই জায়গায় বল পেলে ওকে আটকানো অত্যন্ত কঠিন। আমাদের আক্রমণভাগ শক্তিশালী ঠিকই, তবে পিছন থেকে স্থিতিশীলতা তৈরি করাও জরুরি। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে বল পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি শক্ত ভিত প্রয়োজন, আর সেই কাজটাই করে পামার। বল ছাড়াও ও যথেষ্ট পরিশ্রম করে। শুধু আক্রমণ তৈরি নয়, জায়গা বন্ধ করে এবং দলের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেও রক্ষণে সাহায্য করে।’ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপরও জোর দিয়েছেন আলোনসো। তাঁর মতে, আক্রমণে স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন, তবে তা কখনওই দলের সামগ্রিক পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নয়। চেলসি ম্যানেজার বলেন, ‘বিষয়টা শুধু আক্রমণে স্বাধীনতা দেওয়ার নয়। শৃঙ্খলা বজায় রেখেই সেই স্বাধীনতা কাজে লাগাতে হবে। শৃঙ্খলা থাকলে তবেই স্বাধীনভাবে খেলা সম্ভব। কারণ দলের কী প্রয়োজন, সেটা বুঝতে হবে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওরা যখন নিজেদের খেলা উপভোগ করে, তখন আমাদের পারফরম্যান্সও ভালো হয় এবং জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। তবে সেটা কখনওই নিয়ন্ত্রণহীন স্বাধীনতা হতে পারে না। সেখানে নির্দিষ্ট নির্দেশ এবং নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। কিছু খেলোয়াড় দলকে স্থিতিশীলতা দেয়, আবার কেউ নতুন কিছু তৈরি করে। কোল পামার, মরগ্যান রজার্স, জোয়াও পেড্রো এবং এস্তেভাওয়ের মতো খেলোয়াড়দের আমাদের প্রয়োজন।’ সবশেষে প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান নিয়েও মুখ খুলেছেন আলোন্সো। তাঁর মতে, এই লিগে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। খেতাবের লড়াইয়ে থাকা দল হোক কিংবা অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা দল, প্রত্যেক প্রতিপক্ষই কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। আলোন্সোর কথায়, 'প্রিমিয়ার লিগ অত্যন্ত কঠিন প্রতিযোগিতা। চেলসিতে যোগ দেওয়ার আগেই বিষয়টি জানতাম। কিন্তু এখানে কাজ করতে এসে প্রতিটি দলের এবং খেলোয়াড়ের মান বুঝতে পারছি। প্রতিটি ম্যাচই আলাদা চ্যালেঞ্জ। এই লিগে কোনও সহজ ম্যাচ নেই। প্রতি সপ্তাহেই নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। প্রতিপক্ষ খেতাবের জন্য লড়ুক কিংবা অবনমন এড়ানোর জন্য, কাউকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই প্রতিটি ম্যাচের জন্য সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। এক মুহূর্তের জন্যও মনোযোগ হারালে প্রতিপক্ষ তার সুযোগ নেবে। এটাই ইংলিশ ফুটবলের সৌন্দর্য।'
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।