
লখনউ। যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ সরকার পশুপালন আর ডেয়ারি শিল্পকে চাঙ্গা করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আর তার ফলও এখন হাতেনাতে মিলছে। গত প্রায় দেড় বছরে ডেয়ারি এবং পশুভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। এর ফলে রাজ্যের অর্থনীতি যেমন মজবুত হচ্ছে, তেমনই গ্রামের দিকে নতুন কাজের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, "ডেয়ারি পণ্য, ডিম, প্রাকৃতিক মধু এবং খাওয়ার যোগ্য পশুভিত্তিক পণ্য"—এই বিভাগের রপ্তানি लगातार বাড়ছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বরের মধ্যে এই পণ্যগুলির রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৪৪.১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮৯.২৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে প্রায় ১০.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বেশি।
ব্যাপারটা শুধু ডেয়ারি পণ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিম, প্রাকৃতিক মধু এবং অন্যান্য পশুভিত্তিক খাবারের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় উত্তরপ্রদেশের রপ্তানি নতুন গতি পেয়েছে। विभागीय अधिकारियों के अनुसार, দুধ, ঘি, পনির, মাখন, গুঁড়ো দুধের পাশাপাশি মধু আর ডিমের মান ভালো হওয়ায় বিশ্ব বাজারে রাজ্যের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা বেড়েছে। এর সঙ্গে উন্নত প্যাকেজিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল আর সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের কারণেও রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
রাজ্য সরকার পশুপালন ও ডেয়ারি শিল্পকে মজবুত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে ডেয়ারি প্রসেসিং ইউনিট বাড়ানো হচ্ছে এবং কোল্ড চেইন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পণ্যের মান উন্নত হয়েছে, যার ফলে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সরকার পশুপালকদের উন্নত জাতের পশু, ট্রেনিং, পশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং আর্থিক সাহায্যও দিচ্ছে। এছাড়া, দুগ্ধ সমবায় সমিতি এবং বেসরকারি ডেয়ারি সংস্থাগুলোকেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে গ্রামের দিকে দুধ সংগ্রহ ও বিক্রির ব্যবস্থা আরও মজবুত হয়েছে।
ডেয়ারি ও পশুভিত্তিক পণ্যের রপ্তানিতে এই বৃদ্ধি রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য একটি ভালো ইঙ্গিত। এর ফলে বহু কৃষক ও পশুপালকের আয় বাড়ছে এবং নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি প্রসেসিং, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা বাড়ানোর দিকে এভাবেই নজর দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে উত্তরপ্রদেশ এই ক্ষেত্রে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।