
Yogi Advice For Parents: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মায়েদের কাছে বিশেষ আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ছোট বাচ্চারা কাঁদলে বা রাগ করলে তাদের কাঁদতে দিন, কিন্তু শান্ত করার জন্য হাতে স্মার্টফোন একদম তুলে দেবেন না। তাঁর মতে, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু সময়ের অপচয় নয়, এটি চোখ ও মস্তিষ্কের ওপরও খারাপ প্রভাব ফেলে। এর ফলে বাচ্চাদের চিন্তাভাবনার ক্ষমতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে এটি একটা নেশার মতো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সোমবার রাজস্থানের জালোর জেলার শ্রী রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দিরে (সিরে মন্দির) ৩৭৫তম প্রতিষ্ঠা বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দু'দিনের মহাযজ্ঞ ও বিশাল ধর্মসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই কথাগুলো বলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি সমাজ, যুবসমাজ এবং পরিবারের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, আজকের দিনে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। এর ফলে চোখের ওপর চাপ পড়ছে এবং মানসিক तनावও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, একটানা মোবাইল দেখার ফলে অনেকেই অবসাদের শিকার হচ্ছেন। তাঁর মতে, মোবাইল গেম এবং সোশ্যাল মিডিয়া শিশু ও তরুণদের ভুল পথে চালিত করতে পারে। এই সময়টা যদি ভালো বই পড়া, যোগব্যায়াম বা শরীরচর্চায় লাগানো যায়, তাহলে জীবন আরও সুশৃঙ্খল ও সফল হতে পারে।
ধর্মসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় যোগী তরুণ প্রজন্মকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, স্মার্টফোন ততটুকুই ব্যবহার করা উচিত, যতটুকু দরকার। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং একে অপরের সঙ্গে কথা বলা খুব জরুরি। তিনি বলেন, খাওয়ার সময় বা পুজোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা উচিত নয়। কারও ফোন এলে, পরেও তাকে ফোন করা যেতে পারে। এতে পারিবারিক সম্পর্ক মজবুত হয় এবং জীবনে ভারসাম্য বজায় থাকে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আজকাল ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। জীবনে ব্যর্থতা এলে ঘাবড়ে না গিয়ে, তার কারণ বুঝে এগিয়ে যাওয়া উচিত। কঠোর পরিশ্রম এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
যোগী তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশের শত্রু ও মাদকের কারবারিরা নতুন প্রজন্মকে नशेর জালে ফাঁসাতে চায়। আমাদের এটা রুখতে হবে। তিনি বলেন, কোনও দেশের ভবিষ্যৎ দেখতে হলে তার তরুণ প্রজন্মকে দেখতে হয়। তরুণরা যদি সঠিক পথে এগোয়, তবেই দেশ উন্নতি করে। তাই পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে মিলে মাদকের কারবারিদের গ্রামে, শহরে বা পাড়ায় ঢুকতে বাধা দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে ২০০-র বেশি দেশ থাকলেও ভারতের পরিচিতি আলাদা। এখানকার সংস্কৃতি, উৎসব, ঐতিহ্য এবং সাধুসন্তদের শিক্ষা একে বিশেষ করে তুলেছে। তিনি সিরে মন্দিরের কাছে বাঁদরদের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যখন তাদের রুটি দেওয়া হয়েছিল, তখন একটি বাঁদর প্রথমে একটি রুটি শেষ করে, তারপর দ্বিতীয়টি হাতে নেয়। এর থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, প্রয়োজনের বেশি জিনিস জমানো ঠিক নয়। মানুষের লোভ ছেড়ে দুঃস্থদের সাহায্য করার মানসিকতা রাখা উচিত।
ভারতীয় সংস্কৃতির বিশেষত্ব ব্যাখ্যা করে যোগী বলেন, এখানে নানা বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও একতা রয়েছে। তিনি ভগবান শিবের পরিবারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, মা পার্বতীর বাহন সিংহ, ভগবান শিবের বাহন ষাঁড়, গণেশের বাহন ইঁদুর এবং কার্তিকের বাহন ময়ূর। তা সত্ত্বেও পুরো পরিবার একসঙ্গে থাকে। এটাই ভারতের সংস্কৃতির প্রতীক, যেখানে বিপরীত স্বভাবের উপাদানও একসঙ্গে মিলে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
যোগী বলেন, ভারতে ঋষি-মুনি ও সাধুসন্তদের পরম্পরা বহু প্রাচীন। বিভিন্ন মঠ এবং আশ্রম সমাজের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জনকল্যাণের অনেক কাজ করছে। তিনি বলেন, ধর্ম সমাজকে এক সুতোয় বাঁধার মাধ্যম, অন্যদিকে জাতপাত সমাজকে দুর্বল করে দেয়। তাই মানুষকে आपसी ভেদাভেদ ভুলে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করা উচিত।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই দেশ বীর ও বীরাঙ্গনাদের বলিদানে তৈরি হয়েছে। তিনি চিতোরগড়ের রানি পদ্মিনীর জহর ব্রত এবং রাজস্থানের অনেক বীরের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি সিরে মন্দিরের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও শিলালিপির কথা উল্লেখ করে সেগুলির সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন।
যোগী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। আগের সরকারগুলো সমাজকে ভাগ করার রাজনীতি করত, কিন্তু এখন দেশকে একত্রিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, সরকার গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে এবং দেশে সড়ক, রেল, মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর দ্রুত উন্নতি হয়েছে।
যোগী বলেন, ভারতে আস্থা ও আধ্যাত্মিকতার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আস্থা কেবল ধর্মীয় অনুভূতি নয়, এটি জাতীয় চেতনারও প্রতীক। তিনি বলেন, যখন দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করে, তখন বড় থেকে বড় কাজও সম্ভব হয়। এই ভাবনার জোরেই অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।