
জাপানে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় বার্তা দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সফরের প্রথম দিনেই প্রায় ১১,০০০ কোটি টাকার মউ (MoU) বা চুক্তিপত্রে সই হয়েছে। এই চুক্তিগুলিকে শুধু कागजी करार হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের কারখানা, তরুণদের চাকরি এবং নতুন প্রযুক্তির জন্য একটি মজবুত ভিত্তি হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, এই চুক্তিগুলি কৃষি সরঞ্জাম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, জল ও পরিবেশ সংক্রান্ত সমাধান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রিন্টিং, হসপিটালিটি এবং রিয়েল এস্টেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলির সঙ্গে যুক্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে রাজ্যের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে এবং বিশ্বের বড় সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত হবে।
১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওসাকা-ভিত্তিক এই জাপানি বহুজাতিক সংস্থাটি কৃষি এবং শিল্প যন্ত্রাংশ তৈরিতে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ট্র্যাক্টর, হার্ভেস্টার, ইঞ্জিন এবং নির্মাণ সরঞ্জামের পাশাপাশি জল ও পরিবেশ পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও এই সংস্থা সক্রিয়। ভারতে তারা Escorts Kubota Limited-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কৃষি যন্ত্রপাতির আধুনিকীকরণে কাজ করছে। নতুন চুক্তির ফলে উত্তরপ্রদেশে কৃষি সরঞ্জাম তৈরি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির জগতে এটি একটি প্রথম সারির সংস্থা, যা স্পার্ক মিন্ডা গ্রুপের অংশ। মেকাট্রনিক্স, ওয়্যারিং হারনেস, সেন্সর এবং ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) সলিউশনে এদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। এই বিনিয়োগের ফলে রাজ্যে ইলেকট্রিক গাড়ির ইকোসিস্টেম আরও মজবুত হতে পারে।
অটোমোবাইল এবং অ্যারোস্পেস সেক্টরের জন্য আধুনিক কানেক্টর ও ইলেকট্রনিক ইন্টারফেস তৈরিতে এদের বিশেষ নামডাক আছে। এই অংশীদারিত্বের ফলে হাই-টেক অটো ইলেকট্রনিক্স এবং উন্নত যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষেত্রটি আরও শক্তিশালী হবে।
কেমিক্যাল, আধুনিক উপকরণ, মোবিলিটি এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো একাধিক ক্ষেত্রে কাজ করে এই জাপানি সংস্থাটি। এই প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশে নতুন শিল্প ক্লাস্টার গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
উন্নত মানের স্ক্রিন প্রিন্টিং কালি এবং কোটিং সলিউশনের জন্য পরিচিত এই সংস্থা। এদের তৈরি পণ্য গাড়ির ডিকাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রাফিক্স এবং ইলেকট্রনিক্স প্যানেলে ব্যবহার করা হয়। ভারতে এদের একটি উৎপাদন ইউনিট আগে থেকেই রয়েছে, যা এবার আরও বড় হতে পারে।
হসপিটালিটি এবং রিয়েল এস্টেট সেক্টরে বিনিয়োগের জন্য চুক্তি হয়েছে। এর ফলে পর্যটন, হোটেল ব্যবসা এবং নগরোন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে নতুন গতি আসতে পারে।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বিনিয়োগের ফলে তিনটি বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে:
প্রথম দিনে হওয়া এই চুক্তিগুলি শুধু বিনিয়োগের অঙ্ক নয়, বরং ভারত ও জাপানের মধ্যে বিশ্বাস এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের একটি বড় ইঙ্গিত। গত কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশ তার পরিকাঠামো, এক্সপ্রেসওয়ে এবং শিল্প নীতিতে যে পরিবর্তন এনেছে, তার প্রভাব अब বিদেশি বিনিয়োগের রূপে দেখা যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর আগামী দিনে আরও শিল্প চুক্তি নিয়ে আসতে পারে। যদি এই প্রকল্পগুলি বাস্তবে রূপায়িত হয়, তবে উত্তরপ্রদেশ দেশের অন্যতম প্রধান ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে নিজের পরিচয় আরও মজবুত করতে পারবে।