
লখনউ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ প্রমাণ করে দিয়েছে যে শুধু প্রকল্পের ঘোষণা করাই উন্নয়ন নয়, বরং সেগুলিকে সময়মতো শেষ করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আসল পরিবর্তন। যোগী সরকার রাজ্যকে একটি ‘কমপ্লিট প্যাকেজ মডেল’ দিয়েছে, যেখানে যে কোনও প্রকল্পের শুরু থেকে তার উদ্বোধন পর্যন্ত ক্রমাগত নজরদারি এবং দ্রুত গতিতে কাজ করা হয়।
জেবর বিমানবন্দর হোক বা গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে, বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ে বা অন্য বড় পরিকাঠামো প্রকল্প, সরকার প্রতিটি যোজনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার উপর জোর দিয়েছে। সম্প্রতি গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ৫৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের শিলান্যাস হয়েছিল ১৮ ডিসেম্বর ২০২১-এ এবং ২৯ এপ্রিল ২০২৬-এ এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গত ৯ বছরে উত্তরপ্রদেশের ছবিটা বদলে দিয়েছেন। তিনি রাস্তা, মেট্রো, বিমানবন্দর এবং শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছেন। যোগী সরকারের আমলে শুধু প্রকল্পের ঘোষণা হয়নি, বরং সেগুলি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে নির্মাণ কাজের পর্যালোচনা করতেন এবং প্রকল্পগুলির অগ্রগতির উপর ক্রমাগত নজর রাখতেন। এই কারণেই অনেক বড় প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা রেকর্ড সময়ে শেষ হয়েছে এবং মানুষ তার সুবিধা পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশনায়, জেবর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করা হয় ২৮ মার্চ ২০২৬-এ। এর শিলান্যাস হয়েছিল ২৫ নভেম্বর ২০২১-এ। এই বিমানবন্দরটি উত্তরপ্রদেশের পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে উঠেছে। এর ফলে দিল্লি-এনসিআর-এর ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচলের চাপ কমবে এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। যোগী সরকারের দূরদৃষ্টির কারণে উত্তরপ্রদেশ দেশের প্রথম এমন রাজ্য হয়ে উঠেছে, যেখানে পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পরিকল্পনায় ১৪ জুলাই ২০১৮-তে পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের শিলান্যাস করা হয়েছিল এবং ১৬ নভেম্বর ২০২১-এ এর উদ্বোধন করা হয়। একইভাবে, বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ২০২২ সালের জুলাই মাসে এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পগুলি রাজ্যের পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলিকে উন্নত সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিশা দেখিয়েছে। এর ফলে ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে।
লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ের শিলান্যাস করা হয়েছিল ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। এই প্রকল্পের কাজ এখন প্রায় শেষের দিকে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এর উদ্বোধন হতে পারে। এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে লখনউ এবং কানপুরের মধ্যে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ৪৫ মিনিট হয়ে যাবে।
पूर्वाঞ্চল অঞ্চলকে আরও ভালো কানেক্টিভিটি দেওয়ার জন্য গোরখপুর লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছিল। এর কাজ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় এবং জুন ২০২৫-এ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এর উদ্বোধন করেন। এছাড়া, ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঝাঁসি লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ের পরিকল্পনা নিয়েও কাজ চলছে। এই প্রকল্পে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং এটি ৬৩টি গ্রামের মধ্যে দিয়ে যাবে। এই সমস্ত প্রকল্পের ফলে দেশের এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কে উত্তরপ্রদেশের অংশীদারিত্ব প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।
২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে মূলত লখনউ এবং বারাণসী বিমানবন্দর দুটিই চালু ছিল। কিন্তু যোগী সরকার রাজ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন উত্তরপ্রদেশ ২১টি বিমানবন্দরের নেটওয়ার্ক তৈরির দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অযোধ্যার মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর একটি বড় উদাহরণ। এর নির্মাণ কাজ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছিল এবং ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩-এ এর উদ্বোধন হয়।
এছাড়াও, ১০ মার্চ ২০২৪-এ আজমগড়, আলিগড়, চিত্রকূট, মোরাদাবাদ এবং শ্রাবস্তী বিমানবন্দরেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। যোগী সরকারের প্রচেষ্টার ফল হল, যেখানে ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ বিমানে যাতায়াত করেছিলেন, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে এই সংখ্যা ১৪ কোটিরও বেশি হয়ে গেছে।
উত্তরপ্রদেশে মেট্রো এবং র্যাপিড রেল প্রকল্পেও দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। আগ্রা মেট্রো প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর ২০২০-তে এবং মার্চ ২০২৪-এ এর পরিষেবা শুরু হয়। অন্যদিকে, মীরাট মেট্রোর পরিষেবা ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু করা হয়েছে। যোগী সরকার ভবিষ্যতে গোরখপুর, বারাণসী, মীরাট এবং প্রয়াগরাজের মতো শহরেও মেট্রো পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় উত্তরপ্রদেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। লখনউতে ব্রহ্মোস মিসাইল প্রোডাকশন ইউনিটের উদ্বোধন করা হয় মে-জুন ২০২৫-এ। এছাড়া, ইউপি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল এবং ২০২৩ সাল থেকে এর কার্যক্রম চালু হয়েছে।
কানপুরে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের অধীনে गोला-বারুদ এবং মিসাইল প্ল্যান্টে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে উত্তরপ্রদেশ দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে।
যোগী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির সাফল্যের পেছনে প্রশাসনিক সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কঠোর নজরদারিকে বড় কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। সরকার আধিকারিকদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করেছে এবং গাফিলতির ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থাও করেছে। পাশাপাশি, প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে প্রকল্পগুলির অগ্রগতির উপর ক্রমাগত নজর রাখা হয়েছে। এই কারণেই উত্তরপ্রদেশে অনেক বড় পরিকাঠামো প্রকল্প সময়মতো শেষ হয়েছে এবং রাজ্য দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে।