
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বড়সড় পদক্ষেপ যোগী আদিত্যনাথ সরকারের। প্রায় ২৮ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর অ্যাকাউন্টে স্কলারশিপ ও ফি বাবদ ৩৩৫০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। অনগ্রসর ও আর্থিকভাবে দুর্বল পড়ুয়াদের জন্য এই টাকা বিরাট সাহায্য করবে। লখনউতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন রেকর্ড তৈরি হল।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৭ লক্ষ পড়ুয়াকে প্রায় ৪৮০০ কোটি টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক সাহায্যেই সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক ক্ষমতায়নকেও মজবুত করছে। পড়ুয়াদের মুখের হাসি আর আত্মবিশ্বাসই এই প্রকল্পের সাফল্য প্রমাণ করে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বোতাম টিপে পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই গোটা হল হাততালিতে ফেটে পড়ে। এই অনুষ্ঠানে দীপেন্দ্র কুমার, নেহা সিং, বৈভবকর পাঠক, সুজিত, দিব্যাংশী, নিহাল ফতিমা, পরিধি পাণ্ডে এবং মোনিকাকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এছাড়া, রাষ্ট্রীয় পারিবারিক লাভ যোজনার আওতায় দীপমালা, অর্চনা, শালিনী বর্মা এবং সর্বেশ্বরীকেও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে।
স্কলারশিপ দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। আগে যেখানে শিক্ষাবর্ষের শেষে টাকা পাওয়া যেত, এখন তা ২ অক্টোবর থেকেই দেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী বছর থেকে সেমিস্টার অনুযায়ী টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পড়ুয়ারা ফি জমা দেওয়ার সময়েই আর্থিক সাহায্য পাবে। এর জন্য 'ছাত্র কার্ড' তৈরির কাজও চলছে।
সরকার নিশ্চিত করেছে যে, ব্যাঙ্কের প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কোনও পড়ুয়া যেন বঞ্চিত না হয়। যে সব ছাত্রছাত্রী এই বছর টেকনিক্যাল কারণে স্কলারশিপ পায়নি, তাদের আগামী অর্থবর্ষে সেই টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ পুরো ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ এবং समावेशी করে তুলবে।
মুখ্যমন্ত্রী অভ্যুদয় কোচিং যোজনার অধীনে ৪৩ জন পড়ুয়া পিসিএস (PCS) পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। অন্যদিকে, ভাগীদারি কোচিং থেকে এই প্রথম একজন ছাত্র আইএএস (IAS) মেইনস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতেই বোঝা যাচ্ছে, সরকারি প্রকল্পগুলি একেবারে তৃণমূল স্তরেও দারুণ ফল দিচ্ছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২০ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়াকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। ৩০ মার্চ আরও ১৩.৫২ লক্ষ পড়ুয়াকে এই সুবিধা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ বিভাগের মাধ্যমে মোট ৩৩ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়াকে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রথম ১০০% যোগ্য পড়ুয়াকে স্কলারশিপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় শিক্ষাব্যবস্থাকে মজবুত করতে ২১৮টি ইন্টার কলেজ, ৭৪টি আইটিআই (ITI) এবং ১৮টি ডিগ্রি কলেজ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, বরেলিতে একটি ইউনানি মেডিকেল কলেজ এবং ২০টি কমন সার্ভিস সেন্টারও চালু হয়েছে, যা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।
আমি আরআর ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে বিটেক পড়ছি। স্কলারশিপের টাকায় আমার পড়াশোনা চালাতে খুব সুবিধা হচ্ছে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
-বৈভবকর পাঠক
আমি এসজিপিজিআই-তে বিএসসি নার্সিংয়ের ছাত্রী। স্কলারশিপ আমার পড়াশোনাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।
-দিব্যাংশী