AC Blast: দিল্লিতে ফের এসি ব্লাস্ট, ঘুমের মধ্যেই ছাই প্রাক্তন IAS! এই ৫ ভুল আজই বন্ধ করুন

Published : May 31, 2026, 01:55 PM IST
AC Blast: দিল্লিতে ফের এসি ব্লাস্ট, ঘুমের মধ্যেই ছাই প্রাক্তন IAS! এই ৫ ভুল আজই বন্ধ করুন

সংক্ষিপ্ত

AC Blast:  দিল্লিতে আবার এসি বিস্ফোরণ। এবার প্রাণ গেল প্রাক্তন IAS অফিসারের। গরমে টানা এসি চলছে, কিন্তু সার্ভিসিং নেই, গ্যাস লিক, নোংরা ফিল্টার, লুজ কানেকশন। এসির আউটডোর ইউনিট হয়ে উঠছে টাইম বোমা। 40 ডিগ্রি গরমে কম্প্রেসার ওভারহিট হয়ে ব্লাস্ট করছে। 

AC Blast: খবরটা শুনে গা শিউরে উঠেছে। দিল্লির দ্বারকায় রাত 2টোয় এসি ব্লাস্ট। আগুন ধরে যায় পুরো ফ্ল্যাটে। ঘুমের মধ্যেই মারা গেলেন 70 বছরের প্রাক্তন IAS অফিসার। গত মাসে নয়ডা, গুরুগ্রাম মিলিয়ে 4টে কেস। গরম বাড়ছে, এসি ব্লাস্টও বাড়ছে। আমরা ভাবি এসি মানেই ঠান্ডা হাওয়া, আরাম। ভুলে যাই এটা একটা ইলেকট্রিক-গ্যাসের মেশিন। সামান্য ভুলে পুরো বাড়ি ছাই। আপনার বেডরুমের এসি লাস্ট কবে সার্ভিসিং হয়েছে? আউটডোর ইউনিটে পাখির বাসা নেই তো? রাতভর 16 ডিগ্রিতে চালাচ্ছেন? সাবধান। এই 5টা ভুল করলেই আপনার এসিও বোমা হয়ে যেতে পারে।

ননস্টপ চলছে। ফলে ওভারহিট।

এসি ব্লাস্ট করে কেন? কম্প্রেসার হল আসল ভিলেন: এসির হার্ট হল কম্প্রেসার, যেটা আউটডোর ইউনিটে থাকে। এর কাজ R32 বা R410 গ্যাসকে কম্প্রেস করে ঠান্ডা করা। গরমে যখন 45 ডিগ্রি, আপনি 16 ডিগ্রিতে এসি চালাচ্ছেন, তখন কম্প্রেসারকে 29 ডিগ্রি তাপমাত্রা কমাতে হচ্ছে।ননস্টপ চলছে। ফলে ওভারহিট।

ওভারহিট হলে কী হয়? এক, গ্যাস প্রেসার বেড়ে যায়। দুই, কম্প্রেসারের তেল পুড়ে গিয়ে শর্ট সার্কিট হয়। তিন, আউটডোর ইউনিটে ধুলো-ময়লা-পাখির বাসা থাকলে হিট বেরোতে পারে না। সব মিলিয়ে প্রেসার কুকারের মতো ফেটে যায়। গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য। একটা স্পার্ক পেলেই আগুন। তাই ব্লাস্ট মানেই শুধু আওয়াজ না, আগুনও।

মৃত্যু ডেকে আনছে এই 5টি ভুল: আজই চেক করুন ভুল ১: 10 বছরের পুরোনো এসি সার্ভিসিং ছাড়া চালানো। 8-10 বছর পর কম্প্রেসারের ওয়্যারিং দুর্বল হয়, গ্যাস লিকের চান্স 80%। কোম্পানি বলে 10-12 বছর লাইফ, কিন্তু প্রতি 6 মাসে সার্ভিসিং মাস্ট। আপনি 3 বছরেও একবার সার্ভিস করাননি? আউটডোর ইউনিট খুলে দেখুন, ভিতরে তেল চিটচিটে কালো ঝুল। ওটাই ব্লাস্টের বারুদ।

ভুল ২: লোকাল মিস্ত্রি দিয়ে সস্তায় গ্যাস ভরা। R32 গ্যাস দাহ্য। অরিজিনাল গ্যাস 1 কেজি 1200 টাকা। লোকাল মিস্ত্রি 400 টাকায় নকল গ্যাস বা LPG মিশিয়ে দেয়। লিক হলেই ঘর জুড়ে গ্যাস ছড়ায়। সুইচ অন করলেই স্পার্ক থেকে ব্লাস্ট। অথোরাইজড সার্ভিস সেন্টার ছাড়া গ্যাস ভরবেন না। বিল নেবেন।

ভুল ৩: স্ট্যাবিলাইজার ছাড়া ডিরেক্ট লাইনে এসি চালানো। গরমে ভোল্টেজ আপ-ডাউন করে 180 থেকে 260V। কম্প্রেসার 230V-এর জন্য বানানো। লো ভোল্টেজে কম্প্রেসার বেশি কারেন্ট টানে, গরম হয়। হাই ভোল্টেজে PCB পুড়ে শর্ট সার্কিট। 1.5 টন এসির জন্য 4KVA কপার স্ট্যাবিলাইজার মাস্ট। 2000 টাকা বাঁচাতে গিয়ে 20 লাখের ফ্ল্যাট পোড়াবেন?

ভুল ৪: আউটডোর ইউনিট ঢেকে রাখা বা বদ্ধ জায়গায় বসানো। অনেকে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে আউটডোর ইউনিট ত্রিপল দিয়ে ঢাকেন বা বেলকনিতে গ্রিলের ভিতর ঢুকিয়ে দেন। হিট বেরোবে কোথা দিয়ে? কম্প্রেসার সেদ্ধ হয়ে ফাটবে। আউটডোরের চারপাশে 2 ফুট খোলা জায়গা রাখুন। উপরে শেড থাকলেও সামনে-পিছনে খোলা রাখুন।

ভুল ৫: টানা 16-18 ডিগ্রিতে 10-12 ঘণ্টা চালানো। ঘর ঠান্ডা হলে এসি 24-26 ডিগ্রিতে দিন। 16-তে চালালে কম্প্রেসার কাট-অফ হয় না, ননস্টপ চলে। ওভারহিট, বিল ডাবল, লাইফ হাফ। রাতে স্লিপ মোড বা টাইমার ইউজ করুন। 2-3 ঘণ্টা পর অটো অফ সেট করুন। ঘুমের মধ্যে এসি চললে ব্রেনও টের পায় না গ্যাস লিকের গন্ধ।

ব্লাস্টের আগের ওয়ার্নিং সিগন্যাল: এই 4টে লক্ষণ দেখলেই এসি অফ সিগন্যাল ১: পোড়া গন্ধ বা তার পোড়া গন্ধ। ইনসুলেশন পুড়ছে মানে শর্ট সার্কিট শুরু। সাথে সাথে মেইন অফ।

সিগন্যাল ২: হিস হিস শব্দ আউটডোর থেকে। গ্যাস লিক হচ্ছে। R32 গ্যাস গন্ধহীন, তাই শব্দই ভরসা। বারান্দায় গেলে মাথা ঘুরছে, ঝিমঝিম লাগছে? গ্যাস লিক। দরজা-জানালা খুলে দিন, দেশলাই জ্বালাবেন না।

সিগন্যাল ৩: এসি ট্রিপ করছে বারবার। MCB পড়ে যাচ্ছে মানে কম্প্রেসার বেশি লোড নিচ্ছে। ওভারহিট। মিস্ত্রি ডাকুন।

আউটডোর ইউনিট থেকে কালো ধোঁয়া

সিগন্যাল ৪: আউটডোর ইউনিট থেকে কালো ধোঁয়া বা তেল পড়া। কম্প্রেসার তেল লিক। এক্ষুনি বন্ধ করুন। এটা ব্লাস্টের 1 মিনিট আগের সিগন্যাল।

বাঁচতে হলে কী করবেন? 3টে সেফটি রুল মানুন রুল ১: বছরে 2 বার প্রোফেশনাল সার্ভিসিং। মার্চে গরম শুরুর আগে আর সেপ্টেম্বরে গরম শেষে। ফিল্টার, কুলিং কয়েল, গ্যাস প্রেসার, ওয়্যারিং সব চেক করান। 1500 টাকার সার্ভিসিং আপনার জীবন বাঁচাবে।

রুল ২: স্মোক ডিটেক্টর লাগান। 500 টাকার ব্যাটারি চালিত স্মোক অ্যালার্ম এসির ঘরে লাগান। ধোঁয়া হলেই বিকট আওয়াজ দেবে। রাতে ঘুমের মধ্যে বাঁচিয়ে দেবে।

রুল ৩: আউটডোর ইউনিট রেগুলার চেক। মাসে 1 বার দেখুন পাখির বাসা, মৌচাক, পাতা, প্লাস্টিক জমেছে কিনা। পাইপ ফাটা কিনা। নিজে জল দেবেন না, শুকনো ব্রাশে ঝেড়ে দিন। এসি আরাম দেয়, কিন্তু যত্ন না নিলে যম হয়ে যায়। দিল্লির ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখালো। 5টা ভুলের একটাও আপনার বাড়িতে হচ্ছে না তো? আজই বেডরুমে গিয়ে আউটডোর ইউনিটটা দেখুন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Honor Win Turbo: একবার চার্জ দিলে চলবে টানা ২ দিন! ১০,০০০mAh ব্যাটারির Honor ফোন, ফিচার দেখলে চমকে যাবেন
WhatsApp: হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘চ্যাট ব্লার’ ফিচার, পাশের লোক দেখলেও বুঝবে না কী লিখছেন