
জিও IoT, AI, কম্পিউটার ভিশন, এজ কম্পিউটিং, ডিজিটাল টুইনস, স্মার্ট লেবেল, কানেক্টেড ডিভাইস এবং EV টেকনোলজির মতো অনেক ক্ষেত্রে গবেষণা চালাচ্ছে। ৬,৮১৭টি পেটেন্ট অ্যাপ্লিকেশনের পিছনে শুধু টেলিকম নয়, একটি বড় ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির লক্ষ্য স্পষ্ট। যেমন ধরুন, অনলাইন শপিংয়ে পার্সেল ট্র্যাকিং খুব জরুরি। জিও-র একটি পেটেন্ট রয়েছে স্মার্ট লেবেল ট্র্যাকিংয়ের ওপর। এর সাহায্যে কোনও পার্সেলের ট্র্যাকিং লেবেল নষ্ট হয়ে গেলেও, নতুন লেবেল লাগিয়ে পুরনো সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিফায়ারটি সেখানে ট্রান্সফার করা যাবে। ফলে, ট্র্যাকিংয়ে কোনও সমস্যা হবে না। ভবিষ্যতে আমাদের কেনা জিনিসপত্রেরও নিজস্ব ডিজিটাল পরিচয় থাকতে পারে।
রিটেল জগতেও জিও-র পেটেন্ট পোর্টফোলিও বেশ আকর্ষণীয় প্রযুক্তি দেখাচ্ছে। তার মধ্যে একটি হল 3D কম্পিউটার ভিশন-ভিত্তিক সেলফ-সার্ভিস চেকআউট প্রযুক্তি। RGB-D সেন্সরের সাহায্যে দোকানে রাখা জিনিসপত্র চিনে নিয়ে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেকআউট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ভাবুন তো, আপনি দোকান থেকে পছন্দের জিনিস নিলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার ক্যামেরা ও সেন্সর তা চিনে ফেলল। আপনার ডিজিটাল বাস্কেটে সেই জিনিসটি যোগ হয়ে গেল এবং শেষে সহজেই পেমেন্ট হয়ে গেল। এতে কাউন্টারে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝঞ্ঝাট কমতে পারে।
জিও-র পেটেন্টের মধ্যে আরেকটি আকর্ষণীয় প্রযুক্তি হল ডিজিটাল টুইন। সহজ কথায় বলতে গেলে, বাস্তব জগতের কোনও বস্তু বা সিস্টেমের কম্পিউটার-নির্মিত ডিজিটাল সংস্করণই হল ডিজিটাল টুইন। যেমন, কোনও কারখানার একটি বড় যন্ত্রের ডিজিটাল টুইন তৈরি করলে, সফটওয়্যারেই বোঝা যাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যন্ত্রটি কেমন কাজ করবে। জিও রিটেল পণ্যের জন্য 3D ভিশন, ডিজিটাল টুইন তৈরি এবং অটোমেটেড অ্যানোটেশন সংক্রান্ত একটি পেটেন্ট পেয়েছে, যা ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ মঞ্জুর হয়। এর ফলে কারখানার কোনও যন্ত্র খারাপ হওয়ার আগেই সেন্সরের ডেটা বিশ্লেষণ করে AI জানিয়ে দিতে পারবে। এতে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার মতো বড় লোকসান এড়ানো সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে একটি পরিবার বাড়িতে স্মার্ট ডিভাইস, বাচ্চাদের জন্য AI-ভিত্তিক শিক্ষা, আঞ্চলিক ভাষায় ডিজিটাল পরিষেবা, কৃষকদের জন্য IoT-ভিত্তিক চাষের তথ্য এবং কানেক্টেড হেলথকেয়ারের মতো সুবিধা পেতে পারে। এই সমস্ত পরিষেবাকে এক সুতোয় বাঁধবে কানেক্টিভিটি, ক্লাউড, AI এবং ডেটা পরিকাঠামো। তবে মনে রাখতে হবে, পেটেন্ট পাওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রযুক্তিটি সঙ্গে সঙ্গে বাজারে আসবে। বাণিজ্যিকীকরণের জন্য খরচ, নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং গোপনীয়তার মতো অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয়। তাই ৬,৮১৭টি পেটেন্টকে শুধু একটি সংখ্যা হিসেবে না দেখে, ভারতে ইন্টারনেট কীভাবে বদলাতে চলেছে তার প্রযুক্তিগত সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।