
New subterranean fish: অসমের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল অজানা এক জগৎ! সেই জগতেরই সন্ধান মিলল গোয়ালপাড়া জেলার দুটি সাধারণ কূপে। দুটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির ভূগর্ভস্থ মাছ আবিষ্কৃত হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় সাফল্য। এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন অসমের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া।
১. গিচাক নাকানা (Gitchak nakana): এটি একটি ছোট্ট, স্বচ্ছ এবং অন্ধ লোচ মাছ। আকারে মাত্র ২ সেন্টিমিটার। এর শরীর এতটাই স্বচ্ছ যে রক্ত এবং ভিতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাইরে থেকে দেখা যায়, তাই এর রঙ লালচে দেখায়। নামটি এসেছে গারো ভাষা থেকে - ‘গিচাক’ মানে লাল, ‘না·টক’ মানে মাছ এবং ‘কানা’ মানে অন্ধ। স্থানীয়রা একে প্রথমে কেঁচো ভেবেছিলেন।
২. রক্তমিচথিস আঞ্চি (Rakthamichthys anchi): এটি একটি সরু, ঈলের মতো দেখতে মাছ, যা সোয়াম্প ঈল পরিবারের অন্তর্গত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১০ মিমি পর্যন্ত হয়। এটিও সম্পূর্ণ অন্ধ এবং স্বচ্ছ। ‘আঞ্চি’ ও ‘রক্তম’ শব্দের অর্থ রক্ত, যা এর লালচে স্বচ্ছ শরীরকে বোঝায়।
দুটি মাছই ফ্রিয়েটোবায়োটিক, অর্থাৎ এরা ভূগর্ভস্থ জলস্তরের মধ্যে বাস করে। সম্পূর্ণ অন্ধকারে বেঁচে থাকার জন্য এদের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।
২০২১ সালে গবেষক উইমারিথি কে. মারাক প্রথম এই মাছটি একটি কূপে দেখতে পান এবং ছবি তুলে তাঁর সুপারভাইজারকে পাঠান। পরে ২০২৪ সালে তাঁর এক আত্মীয় কূপ পরিষ্কার করার সময় দ্বিতীয় প্রজাতিটি খুঁজে পান। এরপর জার্মানির বিজ্ঞানী ড. রালফ ব্রিটজের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক দল মাইক্রো-সিটি স্ক্যান করে মাছ দুটির শরীর পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে যে এরা নতুন প্রজাতি।
গবেষকরা এই কূপগুলির সঠিক অবস্থান গোপন রেখেছেন, যাতে কেউ এর অপব্যবহার করতে না পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূগর্ভস্থ জলজ বাস্তুতন্ত্রে এখনও অনেক অজানা প্রাণী লুকিয়ে আছে, যা নগরায়ণ ও কৃষি দূষণের কারণে হারিয়ে যাওয়ার আগে আমাদের রক্ষা করতে হবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।