
দীপাবলির আগেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে চলেছে বিভিন্ন সরকারি সামাজিক প্রকল্পের টাকা। বুধবার রাতে নবান্ন থেকে এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে বার্ধক্য ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা এবং লোকপ্রসার শিল্পীদের ভাতা একাধিক প্রকল্পের টাকা উৎসবের আগেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ও দিব্যাঙ্গ ভাতা প্রাপক এবং ৩ লক্ষ লোকপ্রসার শিল্পী ভাতা প্রাপককে দীপাবলির আগেই টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার ১ কোটি ৬৫ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টেও টাকা পাঠানো হবে।
সাধারণত প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। তবে এ বছর ৮ নভেম্বর কালীপুজো ও দীপাবলি থাকায় উৎসবের আগেই টাকা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বেকার যুবক, যুবতীদের জন্য সংকল্পপত্রে ঘোষিত 'ভরসা প্রকল্প' চালুর বিষয়েও পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্নাতক ও অস্নাতক দুই ধরনের যুবক যুবতীর জন্যই এই প্রকল্পের কাজ চলছে। কবে থেকে ফর্ম দেওয়া হবে তা এখনও জানা যায়নি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। সেখানে অনুমোদন মিললে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বা আবেদনের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। যুবসাথী প্রকল্পের ধাঁচে ভরসা প্রকল্প চালু হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এদিকে, আগামী ১৩ তারিখ রাজ্যের আবাস প্রকল্পের উপভোক্তাদের জন্যও রয়েছে বড় ঘোষণা। ওই দিন ৭ লক্ষ ২০ হাজার পশ্চিমবঙ্গ আবাস প্রাপককে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। এর জন্য প্রায় ৪,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ৪ কোটি ২০ লক্ষ নাগরিকের হাতে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত ২ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন।
শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, রাজ্যের বাইরে থাকা ৬ হাজার মানুষও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এই খাতে কেন্দ্রীয় সরকার ৬০ শতাংশ এবং রাজ্য সরকার ৪০ শতাংশ অর্থ বহন করছে। রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা।
এদিন মুর্শিদাবাদে বাবরের নামে মসজিদ নির্মাণের বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বাবরের নামে কোনও মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মুর্শিদাবাদে বহু কৃতী মানুষের নাম রয়েছে। তাঁদের নামে মসজিদ নির্মাণ করা যেতে পারে। কিন্তু বাবরের নাম থাকলে কোনও পরিকল্পনা বা অনুমোদন মিলবে না। এই বিষয়ে জেলার জেলাশাসককে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.