
রবিবার হালিশহরে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই হালিশহরে গেলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। নিহতের বাড়ি থেকে বেরিয়েই হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ ও আইও বা তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত জানান। এছাড়া মৃতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে চাকরি ও ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। শুভেন্দু স্থানীয় থানাতেও গিয়েছিলেন।
হালিশহরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'একটা লিখিত চিঠি আমাকে মৃতের স্ত্রী দিয়েছেন। মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেননি। তাই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন। ওঁরা দেখা করেননি। দাদা শুধু বলেছিলেন বিচার চাই। বিচার দিতে পারবে রাজ্য প্রশাসন। এটা বড় পাওনা। বাংলার রাজনীতিতে পুলিশের গুলি চালানো, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি, বন্দুকবাজি এবং পুলিশের কিংবা রাজনৈতিক হেফাজতে অনেক খুন হয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় উদাহরণ দেখাতে পারবেন না যে কোনও মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণ করা কারও বাড়িতে এসেছেন। যা এখন দেখতে পাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের উপর ভরসা রেখেছেন পরিবারের লোকজনেরা এটাই বড় ব্যাপার।' শুভেন্দু আরও বলেন, 'ওঁর স্ত্রী আমাকে বলেছেন, আপনাকে ‘দোষী’ পুলিশদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দু’টি বাচ্চা রয়েছে। আমার ভবিষ্যৎ ও বাচ্চার পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে হবে। তৃতীয়টা বলেননি। এটা আমরা বলেছি। পুলিশ লকআপে মারা গিয়েছেন, তা দিনের মতো সত্যি। কতটা অত্যাচারে মারা গিয়েছেন, তা আমি বলতে পারব না। যতক্ষণ না রিপোর্ট পাচ্ছি, তা রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বলতে পারব না।'
হালিশহরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন, নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং, জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার, বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস ও স্বাস্থ্য় প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার।
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কাঁচরাপাড়ার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। জেনির অভিযোগ, লকআপে পুলিশের মারধরেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, যদিও পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কল্যাণ বলেন, '‘শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।' তিনি আরও বলেন, তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে হেফাজতে। তাই আইনি লড়াই তারা চালিয়ে যাবেন। পরিবারকে ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। গতকালই নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, জল, ছেঁড়া চটি ছোঁড়া হয়। সূত্রের খবর, গতকাল নিহতের পরিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে অস্বীকার করেন। যদিও মমতার সঙ্গী কল্যাণ জানিয়েছিলেন এই ঘটনার বিচার হবে। দোষীদের শাস্তিও দেওয়া হবে। সেই একই কথা এদিন হালিশহরে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বললেন শুভেন্দু অধিকারী।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.