
নিজের দলের মধ্যেই সংঘাত বাড়ালেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভিযোগ দায়ের করছেন। কাকলির অভিযোগ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় লোকসভার মধ্যে তাঁকে মৌখিকভাবে নিগৃহ করেছেন বারেবারে। কল্যাণকে নারীবিদ্বেষী বলেও দাবি করেছেন কাকলি। তাঁর আরও দাবি, কল্যাণ লোকসভার অন্য মহিলা সাংসদদেরও বিরোধী। তাই শ্রীরামপুরের সাংসদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বারাসতের সাংসদ।
লোকসভায় দলের সচেতক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই বেসুরো কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সম্প্রতি, তিনি দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ১৪ মে, কালীঘাটে দলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই, কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে, লোকসভার মুখ্যসচেতকের দায়িত্বে ফেরানো হয় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপর কাকলি ঘোষ দস্তিদার সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, "৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।' গত রবিবার তৃণমূলের বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের একাংশকেও নিশানাও করেছিলেন। মঙ্গলবার তিনি রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন। তারপরেই দলের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে লেখা চিঠিতে কাকলি বলেছেন, "আমার বিবেক আজ গভীর ভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। ২০২৪ সালে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। তার অভিঘাত তিনি ব্যক্তিগত ভাবে অনুভব করেছেন। যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন সে পদে থাকার মানে হয় না।" কাকলি নিশানা করেন তৃণমূলের ভোট পরামর্শকারী সংস্থা আইপ্যাক-কেও। তিনি লেখেন, "আইপ্যাক নিয়ে নানা মহল থেকে নানা অভিযোগ উঠেছে। সেগুলোও তাঁকে বিচলিত করেছে। যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলে আমি মনে করি।"
কাকলির এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে কল্যাণ বলেছেন, "২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর (কাকলির) আবার কিসের এত কথা? নারদে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি। উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিন্ডিকেট শব্দের জন্মদাত্রী কে? সকলে জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।"
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.