
কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে শুরু হল কলকাতা পুরসভার মাপজোক। ফিতে নিয়ে মাপজোক শুরু করেন পুরসভার কর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টার কিছু পরে কাজ শুরু হয় বলে খবর। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার ওই বাড়িটি নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই সেখানে গিয়েছেন পুরসভার কর্মীরা। ফুটপাত ছেড়ে ওই ভবনের সীমানা প্রাচীর তোলা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
পুরসভার কর্মীরা যখন কালীঘাটের বাড়িতে মাপজোক করে যান, অভিষেক সে সময়ে বাড়িতে ছিলেন না। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে মঙ্গলবার তাঁকে তলব করেছে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি।
সূত্রের খবর বাড়িটির কোন অংশ নিয়ম মেনে তৈরি হয়নি, মূলত সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হয় মঙ্গলবার। সূত্রের দাবি, পুরসভার কর্মীদের হাতে কিছু নকশা এবং প্রযুক্তিগত নথি ছিল। অনুমান করা হচ্ছে, সেগুলি ওই ভবনের অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান। বাড়ির বাইরের অংশে দাঁড়িয়ে তাঁরা সেই নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের বিভিন্ন অংশ মিলিয়ে দেখেন। বিশেষ নজর দেওয়া হয় বাড়ির পিছন দিকের সীমানা প্রাচীর এবং সেখানে থাকা কালো রঙের একটি গেটের উপর। ফিতে দিয়ে ওই অংশের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পরিমাপ করা হয়।
শুধু ভবনের গেট বা সীমানা প্রাচীরই নয়, ফুটপাত থেকে ভবনের দূরত্বও মেপে দেখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরসভার নির্ধারিত ‘সেটব্যাক’ বা খালি জায়গার নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের সংলগ্ন একটি সেলুনেও প্রবেশ করেন পুরসভার কর্মীরা। সেখানেও কিছু পরিমাপের কাজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে গোটা পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে কলকাতা পুরসভার তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পরিদর্শনের ফলাফল বা কোনও অনিয়ম ধরা পড়েছে কি না, সে সম্পর্কেও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে এই মাপজোক ছিল রুটিন পরিদর্শনের অংশ, নাকি কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার এই তৎপরতা এবং একই দিনে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ—দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই পরিদর্শন নিয়ে পুরসভার রিপোর্টে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
এক দিকে যখন ভবানী ভবনে সিআইডির প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তখন তাঁর কালীঘাটের বাড়ির বাইরে মাপজোক শুরু করেন পুরসভার কর্মীরা।