
Mamata Banerjee Dharna: ‘এখন আজকে তৃণমূলের (AITC) সঙ্গে নয়, সে কিন্তু বাঙালিই নয়। তার বাঙালি থাকার অধিকার নেই।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে এই দাবি করে বসলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, মমতা বাংলার মানুষের জন্য লড়াই করছেন। কৃষ্ণনগরের সাংসদের এই মন্তব্য নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মহুয়াকে কটাক্ষ করছে গেরুয়া শিবির। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বাঙালি হতে হলে বা বাঙালি থাকতে হলে কেন পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলকে সমর্থন করতে হবে। তাহলে কি এ রাজ্যে শাসক দলের সমর্থক ছাড়া অন্য কারও থাকার অধিকার নেই? বাংলায় থাকতে হলে শাসক দলকে সমর্থন করতেই হবে? গণতান্ত্রিক পরিসর কি এ রাজ্যে একেবারেই থাকবে না? বিধানসভা নির্বাচনের (2026 West Bengal Legislative Assembly election) আগে এই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।
মহুয়ার এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায়। তিনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে বলেছেন, 'তৃণমূলকে সমর্থন না করলে যদি বাঙালি না হয়, তাহলে আমরা কারা? যে দু কোটি ৩৪ লক্ষ মানুষ বিজেপি-কে (BJP) ভোট দিয়েছেন, তাঁরা কেউ বাঙালি নন? বাঙালি শুধু অনুপ্রবেশকারী, জিহাদিরা! শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughan Sinha), ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan) বাঙালি! যাদের নতুন করে রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) পাঠানো হচ্ছে তারা বাঙালি? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে মঞ্চে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জিহাদের কথা বলছেন। মুখ্যমন্ত্রী সে কথা সমর্থন করছেন। মহুয়া মৈত্র এর আগে প্রকাশ্যে মতুয়াদের অপমান করেছেন, মা কালী-মা দুর্গা সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তাহলে কি যাঁরা কালীপুজো, দুর্গাপুজো করেন তাঁরা বাঙালি নন? এই ধরনের মন্তব্য শুধু বাংলার নয়, সারা দেশের লজ্জা।'
কল্যাণীর বিধায়ক আশাবাদী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ শাসক দলের সাংসদের এই অপমানজনক মন্তব্যের জবাব দেবেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে আরও বলেছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলেন না। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান হলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হবে। তাহলে তো উনি নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেন।'
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।