
সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav) বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ECI) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জ জানালেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) একটা মিথ্যে ঢাকতে আরেকটা মিথ্যের আশ্রয় নেয়। ২০২২ সালের রামপুর উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অখিলেশ অভিযোগ করেন, সেখানে ভোটারদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর অখিলেশ বলেন, "বিজেপির মিথ্যেগুলো সোনপাপড়ির মতো। একটা মিথ্যের ওপর আরেকটা মিথ্যের পরত চাপিয়ে দেয় ওরা। সব ভিডিও তো আর্কাইভেই আছে। রামপুর নির্বাচনের সময় ওরা কোনও ভোটারকেই বেরোতে দেয়নি। নির্বাচন কমিশন কি অন্ধ?" তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি করেন।
অখিলেশ বলেন, "বিজেপির লোকেরা সিসিটিভি আর ক্যামেরাকে খুব ভয় পায়। নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ হয়, তাহলে কুন্দরকির ভোটের সিসিটিভি ভিডিও জনতাকে দেখাক। সুপ্রিম কোর্টের শুনানি যদি লাইভ দেখানো যায়, তাহলে বাংলার ভোট আর গণনার সিসিটিভি কেন দেখানো যাবে না?"
ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে অখিলেশ দাবি করেন যে সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, "ওরা যেভাবে গণতন্ত্র এবং দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) অপমান করেছে, তার জন্য ওঁর ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। এই দায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর।" তিনি আরও যোগ করেন, "আপনারা কি এমনভাবে নির্বাচন করাবেন যে রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্টদেরই বসতে দেবেন না, আর তারপর SIR প্রয়োগ করে কোন বুথে কত ভোটারের নাম কাটতে হবে তার প্রস্তুতি নেবেন? তৃণমূলের শক্ত বুথগুলো থেকে ওদের একনিষ্ঠ ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এই অধিকার কে দিয়েছে? এটা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হত্যা। তাই আমাদের আবেদন থাকবে সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে, অন্তত এই প্রশ্নে আমাদের একসঙ্গে দাঁড়াতে দেখা উচিত।"
অখিলেশ কটাক্ষ করে বলেন, "আমরা দুটো ভুল করেছি: এক, আমরা বিজেপিকে হারিয়েছি, আর দুই, আমরা ওদের অযোধ্যাতেও হারিয়েছি। আমাদের তো টার্গেট করা হবেই, আর অনেকেই আমাদের টার্গেট করে।" পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে অখিলেশ বলেন, "আমি আশা করি, এরপর দেশের মানুষ জাগবে। বাংলায় যা হয়েছে... আপনারা কি ভাবতে পারেন যে বাংলায় ৩ লক্ষের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং বেছে বেছে অফিসারদের পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল? আমি এও শুনেছি যে অফিসারদের লোভ দেখানো হয়েছিল, যদি তারা নির্বাচনে জিততে সাহায্য করে, তাহলে তাদের ভালো টাকা দেওয়া হবে। আর আপনারা দেখবেন, এখান থেকে যে সব বড় অফিসাররা নির্বাচন করাচ্ছেন, তারা পরে কোনও বড় পদ পাবেন।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির "পুরুষতান্ত্রিক এবং সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা" রয়েছে, যা রাজনীতিতে মহিলাদের উত্থান সমর্থন করে না। এসপি প্রধান বলেন, "ওরা দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) পছন্দ করে না কারণ দিদি লড়াই করতে ভালোবাসেন। উনি অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধি বলেই ওঁকে ঘৃণা করা হচ্ছে। বিজেপির লোকেরা, যারা পুরুষতান্ত্রিক এবং সামন্ততান্ত্রিক, তারা কখনওই একজন মহিলাকে এগোতে দেখতে পারে না। রাজস্থানে ওরা একজন মহিলাকে মুখ্যমন্ত্রী হতে দেয়নি। ওরা শুধু একজন মহিলাকেই মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছে, যার কোনও ক্ষমতাই নেই।"
তিনি আরও বলেন, "এই লড়াইয়ে আমরা দিদির সঙ্গে আছি, কারণ আমাদের গণতন্ত্র এবং সংবিধানকে বাঁচাতে হবে। ওরা যদি আমাদের ভোটের অধিকারই কেড়ে নেয়, তাহলে আর গণতন্ত্র বলে কী থাকবে? বিজেপি যতটা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, ততটা আর কেউ করেনি। ক্ষমতার জন্য বিজেপি যে কোনও পর্যায়ে যেতে পারে। ওরা যে কোনও আইন ভাঙতে পারে। উত্তরপ্রদেশে ওরা কী করেছে, তা আমরা খুব কাছ থেকে দেখেছি। এখানেও তাই করেছে।"
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহের মধ্যেই কলকাতায় এই বৈঠকটি হয়েছে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে, বিজেপি ২০৭টি আসন জিতেছে, যেখানে গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা টিএমসি ৮০টি আসন পেয়েছে।