
Jadavpur University News: পড়ুয়া হেনস্থা থেকে শুরু করে সুইসাইড। বারে বারে সংবাদ শিরোনামে কলকাতার খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুর। আর এই সব অরাজকতা রুখতে এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হল অ্যালকোহল-মাদক। প্রবেশের নতুন নিয়ম। সন্ধ্যা নামলেই কড়া নজরদার। তবে কী এবার হাল ফিরবে যাদবপুরে..?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বজায় রাখতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং অবস্থান নিয়ে জারি হয়েছে একগুচ্ছ কড়া নিয়ম। বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে মাদক নিষিদ্ধ করা— কী কী থাকছে এই নতুন নির্দেশিকায়?
পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক : এখন থেকে রাত ৮টার পর ক্যাম্পাসে থাকতে হলে বা সন্ধ্যা ৭টার পর প্রবেশ করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র বা ID কার্ড সাথে রাখা বাধ্যতামূলক। যদি কারও কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড না থাকে, তবে তাকে অন্য কোনো সরকারি পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং গেটে রাখা রেজিস্টারে সব তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। আপনি কার সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন, তার নাম ও ফোন নম্বরও দিতে হবে সেখানে।
যানবাহনের ক্ষেত্রে নিয়ম : ক্যাম্পাসে ঢোকার জন্য দুই চাকা বা চার চাকার গাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিং স্টিকার থাকা আবশ্যিক। স্টিকার না থাকলে গেটে গাড়ির নম্বর রেজিস্ট্রি করতে হবে এবং প্রয়োজনে চালক ও যাত্রীদের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
মাদক ও অবৈধ কাজ নিষিদ্ধ : বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য বা অ্যালকোহল সেবন এবং অসামাজিক কার্যকলাপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণের যাতায়াত ও মর্নিং ওয়াক বন্ধ : ক্যাম্পাসকে সাধারণ যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি সকাল বা সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বেড়ানো বা মর্নিং ওয়াকও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মিটিং-মিছিল-জমায়েত নিষেধাজ্ঞা : রাত ৮টার পর সান্ধ্যকালীন ক্লাসের ছাত্রছাত্রী ছাড়া অন্য কেউ দলবদ্ধভাবে আড্ডা বা জমায়েত করতে পারবেন না। উৎসবের সময় ছাত্রছাত্রীদের জন্য রাত ৯টা পর্যন্ত কিছুটা ছাড় থাকলেও বাকি সময় নিয়ম কঠোর থাকবে।
কড়া হুঁশিয়ারি ও নিরাপত্তা কর্মীদের ক্ষমতা : রাত ৮টার পর উপযুক্ত কারণ ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে তাকে 'অনুপ্রবেশকারী' হিসেবে গণ্য করা হবে। নিরাপত্তা রক্ষীদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাদের সাথে কোনো রকম খারাপ ব্যবহার বা দুর্ব্যবহার করলে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কড়া নিয়মের বেড়াজালে কি আদৌ বদলাবে যাদবপুরের চেনা ছবি? সিসিটিভি বা আইডি কার্ডের কড়াকড়িতে কি ফিরবে ক্যাম্পাসের হারানো শৃঙ্খলা, নাকি ব্যাহত হবে মুক্তচিন্তার পরিবেশ? নাকি এইভাবে বন্ধ হবে র্যাগিং?? কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই দ্বিধাবিভক্ত ছাত্রসমাজ।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।