
বারুইপুরে নাবালিকা খুনের ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে সোমবার বারুইপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রবিবার রাত থেকে সোমবার সকালের মধ্যে গ্রেফতার হন প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার নামে আরও দুই অভিযুক্ত। ঘটনার তদন্তে রাজ্য পুলিশ ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে, যারা এসটিএফ ও এসওজি-র সহযোগিতায় রবিবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের বাসিন্দা ১২ বছরের এক কিশোরী। রবিবার একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়, যাকে ঘিরে গোটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতা এক সন্দেহভাজনকে গণধোলাই দেয়, যাতে তার মৃত্যু হয়। এরপর সারাদিন রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ চলে, থমকে যায় ট্রেন চলাচলও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়, এবং বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুরে জারি হয় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, ঘটনায় মোট চারটি মামলা রুজু হয়েছে— খুন ছাড়াও গণপিটুনিতে মৃত্যু, পুলিশকে মারধর এবং রেললাইন অবরোধ সংক্রান্ত পৃথক মামলা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গণপিটুনির ঘটনায় একটি সাম্প্রদায়িক যোগ ছিল, যদিও তদন্তের স্বার্থে তিনি এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।
রেললাইন উপড়ে ফেলার ঘটনাকে ২০১৯ সালের সিএএ-বিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ওয়াকফ আইন-বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি, এবং এর নেপথ্যে সংগঠিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেন। নাম না করে বিরোধীদের নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ভোটে পরাজিত কিছু শক্তি একজোট হয়ে এই অশান্তি ছড়িয়েছে, এবং তাদেরও এর ফল ভুগতে হবে।