
হাইকোর্টে আবারও ধাক্কা তৃণমূলের। তৃণমূল কংগ্রেসের ফ্রিজ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আপাতত বন্ধই থাকবে। কীসের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হল, অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, কাদের নামে অ্যাকাউন্ট, সমস্ত অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ব্যাঙ্ককে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে আদালতে। পুলিশের থেকেও তলব করা হল তদন্তর অগ্ৰগতি রিপোর্ট। সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করবে বলে জানিয়ে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। আগামী বুধবার আবারও এই মামলার শুনানি।
এদিন শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, 'তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা রয়েছে। তৃণমূল দলটা দুই ভাগে বিভিক্ত হয়ে গিয়েছে। তাই দুই পক্ষই তাদের টাকা বলে দাবি করলে তখন কী হবে! তাই ওই অ্যাকাউন্ট গুলোতে এখন কোনও লেনদেন করতে দেওয়া ঠিক হবে না। তাই এখন অ্যাকাউন্ট গুলো বন্ধ রাখা উচিৎ।'
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য তাঁর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা হতে পারে। তাঁর নজরদারিতে দৈনিক খরচ চালানোর জন্য তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনও বড় খরচ করা যাবে না। এবং নীতিগত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। তারপরই বিচারপতি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুলোর যাবতীয় তথ্য চেয়ে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষের থেকে হলফনামা তলব করেন। এবং এই মামলায় তদন্তে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য উঠে এসেছে, তার রিপোর্টও এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশের থেকে তলব করলেন।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে দল। একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের তৃণমূল এবং অপরটি বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। ভাঙনের পর দলের তহবিল কাদের হাতে থাকবে সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম সংঘাত। দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তৃণমূলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানান দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। এরপরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রত শিবির। সেই আবেদনের ভিত্তিতে তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার যাতে কোনও রকম লেনদেন না হয় তার জন্য ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেয় পুলিশ। এরপরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুলো খুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। গত মঙ্গলবার বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানান তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত। কিন্তু তা সম্ভব নয় বলে আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ভট্টাচার্য্য।
বৃহস্পতিবার সেই মামলাতেই তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট আপাতত ফ্রিজ থাকবে বলে জানিয়ে দিল হাইকোর্ট। এবং ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষ ও পুলিশের থেকে রিপোর্ট তলব করল আদালত। আগামী বুধবার আবারও এই মামলার শুনানি।