
আপাতত হচ্ছে না কলকাতা পুরসভা নির্বাচন। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত করা কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা যাবে না। জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্য়ায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ওয়ার্ড পুনবিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পুর্যন্ত করা যাবে না কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলা এখনও রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারাধীন।
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ১৪৪। তা বাড়িয়ে ২০৯টি করার হয়েছে। ওয়ার্ডের এই পুনর্বিন্যাস আইন মেনে হয়নি বলেও কলকাতা হাইকোর্টের মামলা ঠুঁকে ছিলেন কসবার বাসিন্দা তথা সিপিএম নেতা দীপু দাস। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ তাতে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি। একই সঙ্গে দুই পক্ষের কাছ থেকেই হলফনামা চেয়েছে। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তারপরের দুই সপ্তাহের মধ্যে বক্তব্য জানাতে হবে মামলাকারীকে। সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছিলেন দীপু দাস।
মামলাকারীর দীপু দাসের দাবি সবমিলিয়ে ৬ সপ্তাহ লাগবে সিঙ্গল বেঞ্চের প্রক্রিয়া শেষ হবে। ততদিনে পুরভোট হয়ে যাবে। তাই সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার আর কোনও গুরুত্ব থাকবে না। এই মামলাটি পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। আর সেই কারণেই শুক্রবার কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা যাবে না।
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি কথা জানিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল রাজ্য। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই মামলা হয়। মামলাকীর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। অভিযোগ ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধাণের ক্ষেত্রে যুক্তসঙ্গত সামঞ্জস্য রাখা হয়নি। ওয়ার্ডগুলির জনসংখ্যা, ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক সামঞ্জস্যের বিষয়গুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এমনকি ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসও যুক্তিসঙ্গত ছিল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী। মামলাকারী আরও প্রশ্ন তোলেন, পুরসভা ভেঙে যাওয়ার পরে পুর কমিশনারের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করার সুপারিশের কোনও ক্ষমতা নেই। অথচ তাই করেছেন পুর কমিশনার। মামলাকারীর দাবি অবৈধভাবেই ওয়ার্ড বিন্যাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
পুরসভার পক্ষে পাল্টা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রের বক্তব্য, প্রথমে বর্ধিত ওয়ার্ডের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সময় আপত্তি ও পরামর্শ জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন কেউ আপত্তি জানাননি। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কলকাতার পুরভোট ঘোষণা আপাতত স্থগিত করল ডিভিশন বেঞ্চ।