
Chorbagan Name: সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার আলো অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানি কাণ্ডে ছন্দোপতন শারদোৎসবের। ১৮ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ ভারী বৃষ্টির মধ্যে ভিড়ের চাপে মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, প্রাণ হারান ১৯ জন। চোরবাগান এখন আলোচনার শীর্ষে ও শিরোনামের কেন্দ্রে। কিন্তু এলাকার নাম হঠাৎ চোরবাগানই বা হল কেন? ‘চোর’টা কে? পুরোনো ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন।
চোর + বাগান = চোরবাগান। শুনলেই মনে হয়, চোরেদের বাগান ছিল বুঝি? কথাটা একেবারে ভুল নয়। আজকের যে চোরবাগান, যা মূলত মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, একসময় সেটা ছিল ঘন জঙ্গলে ভরা এক জনমানবহীন এলাকা। এই জঙ্গলকেই বলা হত ‘বাগান’।
স্থানীয় ইতিহাস বলছে, সেই সময় গঙ্গাস্নানে যাওয়া পুণ্যার্থীরা পুজোর সামগ্রী নিয়ে এই জঙ্গলের পথ দিয়েই যেতেন। আর সেই সুযোগে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা ডাকাত, ঠগি আর লাঠিয়ালরা তাঁদের উপর হামলা চালিয়ে সব লুট করে নিত। পুণ্যার্থীদের কাছে এই জঙ্গল ছিল আতঙ্কের। সেই থেকেই লোকমুখে জায়গাটার নাম হয়ে যায় চোরবাগান - অর্থাৎ চোর-ডাকাতদের বাগান বা জঙ্গল।
১৮৭৬ থেকে ১৮৮১ সালের মধ্যে এই এলাকার চেহারা বদলাতে শুরু করে। ব্রিটিশ আমলে এখানে থাকা বস্তি ভেঙে ফেলে নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়। ১৯০১ সালের Census রিপোর্টেও এর উল্লেখ আছে - “A bustee was demolished in the Jorasanko Section... several streets, since named Chorebagan Street... opened.”
জঙ্গল সাফ হয়ে তৈরি হল অভিজাত পাড়া। একে একে এখানে এসে বসবাস শুরু করলেন কলকাতার ধনী বাঙালি পরিবারগুলি - মল্লিক, ঠাকুর, শীল, শেঠ, বসাকরা। তাঁদের হাত ধরেই চোরবাগান হয়ে উঠল বাবু কালচারের কেন্দ্র।
চোরবাগানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল রাজা রাজেন্দ্র মল্লিকের তৈরি মার্বেল প্যালেস। ১৮৪০ সালে তৈরি এই ‘Palace to the Arts’-কে লর্ড মিন্টো নাম দিয়েছিলেন মার্বেল প্যালেস। এছাড়াও এখানকার প্রতিটি বাড়িই ছিল ইউরোপীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। বাঙালির নবজাগরণের বীজ বোনা হয়েছিল এই পাড়া থেকেই।
ডাকাতের জঙ্গল থেকে আজ চোরবাগান উত্তর কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পুরনো বনেদি বাড়ি, মিষ্টির দোকান, সরু গলি আর পাড়া কালচার নিয়ে আজও বেঁচে আছে এই ইতিহাস। আর ৯০ বছরের বেশি পুরনো চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গা পুজো তো উত্তর কলকাতার অন্যতম সেরা পুজো বলেই পরিচিত, যা এবার দুর্ঘটনার কারণে শিরোনামে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।