
দিল্লিতে সত্য নিকেতনে একটি বিল্ডিং ভেঙে পড়ার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সোমবার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কারা এই বিল্ডিংটি তৈরি করেছিল এবং কেন ছাত্রছাত্রীরা সেখানে বসবাস করছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "একটা হোস্টেল ভেঙে পড়ল, আর ছাত্রদের সঙ্গে এমন একটা ঘটনা ঘটল। এই বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। কারা এমন বিল্ডিং তৈরি করেছিল আর কেনই বা ছাত্ররা ওখানে থাকছিল, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এটা খুবই চিন্তার বিষয়। আমার বিশ্বাস, সরকার এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে।"
এদিকে, দিল্লির সত্য নিকেতনে বিল্ডিং ভেঙে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে। এখনও ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), দমকল, দিল্লি পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে এবং আর কেউ আটকে আছে কি না, তার সন্ধান চালাচ্ছে। গভীর রাতে আরও একটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা ছয়ে পৌঁছায়। রবিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সত্য নিকেতন কলোনির এই এলাকাটি দিল্লি ইউনিভার্সিটির সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত। উদ্ধারকারী দলগুলো তখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের খোঁজে কাজ করছিল।
এই দুর্ঘটনার পর থেকে পেয়িং গেস্ট (PG) হিসেবে ব্যবহৃত বিল্ডিংগুলোর সুরক্ষা এবং রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণ ও অগ্নি-সুরক্ষা নিয়মকানুন কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কংগ্রেস নেত্রী এবং উত্তরাখণ্ডের AICC ইনচার্জ কুমারী শৈলজা এই ধরনের আবাসে থাকা পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিয়ে বিজেপি সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দিল্লিতে পাঠানো হয় এবং তাদের সুরক্ষার জন্য কে দায়ী থাকবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। শৈলজা বলেন, "বিজেপি সরকার কী করছে? কোচিং সেন্টারে যা ঘটেছিল, তা ওরা ভুলে গিয়েছে। দিল্লিতে একটা মাফিয়া চক্র সক্রিয়। এই ছেলেমেয়েদের অনেক আশা নিয়ে এখানে পাঠানো হয়। ওরাই তো বাবা-মায়ের একমাত্র ভরসা। ওদের সুরক্ষার জন্য দায়ী কে?" অন্যদিকে এই বাড়িটি দিল্লি সরকার আগামী ৩ দিনের মধ্যে ভেঙে দিতে হবে। বাড়ির মালিক যদি তা না করে তাহলে সরকারিভাবে তা ভেঙে দেওয়া হবে। আর ভাঙার টাকা বাড়ির মালিকদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।