
সোমবার INDIA জোটের বৈঠকের ঠিক আগে, এই জোটকে 'অস্তিত্বহীন' বলে কটাক্ষ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) মধ্যেকার বিরোধের কথা তুলে ধরেন। কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দিলীপ ঘোষ বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে হেরে তৃণমূল 'ভেঙে' পড়ার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন INDIA জোটের বৈঠকে যোগ দিতে 'বাধ্য' হচ্ছেন।
বিজেপি নেতার কথায়, "এই জোটের কোনও অস্তিত্বই নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে এর কোনও বৈঠকে যেতেন না, কিন্তু এখন যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ওঁর নিজের দলের বিধায়ক, সাংসদরাই ওঁর সঙ্গে নেই। কোনও বিধায়ক, সাংসদ বা কাউন্সিলর সক্রিয় নন; তাঁরা নিজেদের অফিসেও আসেন না। ক্ষমতা থেকে সরতেই তৃণমূলের এই অবস্থা, একেবারে ভেঙে পড়েছে।"
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং কংগ্রেস একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটে লড়ায়, INDIA জোটের শরিকদের একতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বঙ্গ বিজেপি। রবিবার, রাজ্য বিজেপির সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ এই ইস্যুকে 'হাস্যকর বিষয়' বলে কটাক্ষ করেন।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে সমীক ভট্টাচার্য বলেন, "এটা একটা হাসির বিষয়। আপনারা কি আজ পর্যন্ত শুনেছেন যে INDIA জোটের সব দল একসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করছে? পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই খোলাখুলি লড়েছেন। কোথায় INDIA জোট?"
আজ দিল্লিতে INDIA জোটের নেতারা বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকে যোগ দিতে রবিবারই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি রওনা হয়েছেন। কলকাতা বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির কাছে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হারের পর এটাই INDIA জোটের প্রথম বৈঠক।
কংগ্রেস যদিও বারবার দাবি করছে যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আদর্শগত লড়াইয়ে জোট 'ঐক্যবদ্ধ', কিন্তু জোটের ফাটল ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগম (DMK)-এর অনুপস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ বিবাদ জোটের ভবিষ্যৎ পথ যে বেশ জটিল, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ডিএমকে এই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ুতে ভোটের পর কংগ্রেস অভিনেতা বিজয়ের দল 'তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম' (TVK)-কে সমর্থন করায় ডিএমকে 'বিশ্বাসঘাতকতা'র অভিযোগ তুলেছে।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের মতে, দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এই বৈঠকে ২৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। রমেশ জোর দিয়ে বলেন, যে দলগুলো বৈঠকে আসছে না, তারাও কেন্দ্রীয় সরকারের 'নীতি ও কাজের' বিরোধিতা করেছে।
জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডেলে (আগের টুইটার) লেখেন, "মোদী সরকারের যে নীতি ও কাজ লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, প্রতিদিন সংবিধানের উপর আক্রমণ করছে, তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে বিরোধী নেতাদের নিশানা করছে, লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে কোটি কোটি ভারতীয়র জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে, লক্ষ লক্ষ যুবকের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, বিনিয়োগের পরিবেশ দুর্বল করছে এবং বিদেশনীতির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছে, তার বিরুদ্ধে তারা তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে। ভারতের মতোই, INDIA জনবন্ধনও তার বৈচিত্র্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ।"