
Tmc Reshuffle News: বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই একের পর এক উইকেট পতন। দলের ভিতর ভাঙন, টানাপোড়েনের জল্পনার মাঝেই দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বর্ষীয়ান নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে জাতীয় স্তরে যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে সাংগঠনিক কাজে সাহায্য করবেন। এই রদবদলে শারীরিক অসুস্থতার কারণেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী অসুস্থ থাকায় তাঁর জায়গায় দায়িত্ব সামলাবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজ্য নেতৃত্বের এই টিমে সহ-সভাপতি হিসেবে থাকছেন সায়দা আহমেদ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে।
দলের সামনের সারির সংগঠনগুলির বিষয়ে বলতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যুব তৃণমূলের সভানেত্রী পদে থাকছেন সায়নী ঘোষই। অন্যদিকে, সর্বভারতীয় তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মালা রায়। দলের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব দেবেন প্রিয়াঙ্কা অধিকারী। দলের মুখপাত্র হিসেবেও নতুন নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কল্যাণ ব্যানার্জি এবং ডেরেক ও'ব্রায়েন জাতীয় স্তরের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করবেন এবং রাজ্য ইউনিটের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবেন কুণাল ঘোষ।
এদিকে, দলের অন্দরে বিভাজনের জল্পনার মধ্যেই আজ তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার বাসভবনে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন আটজন বিধায়ক এবং ছয়জন সাংসদ। বিধায়কদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীণা মণ্ডল, অসীমা পাত্র, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান ব্যানার্জি এবং অশোক কুমার দেব। সাংসদদের মধ্যে বৈঠকে যোগ দেন দোলা সেন, মালা রায়, কল্যাণ ব্যানার্জি, অভিষেক ব্যানার্জি, ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠকের পর তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঋতব্রত ব্যানার্জিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিয়োগকে 'অবৈধ' বলে উল্লেখ করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে এই নিয়োগের আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে দল কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে স্পিকারের নিযুক্ত করা বিরোধী দলনেতা অবৈধ। আমরা সোমবার এর বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছি। আমরা হাইকোর্টে একটি পিটিশন ফাইল করব।"
তৃণমূল সাংসদ আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপির হাতে তৃণমূল কর্মীদের খুনের ঘটনার বিরুদ্ধেও দল আইনি পদক্ষেপ নেবে। তিনি এও ঘোষণা করেন যে দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা "মিথ্যা মামলা"-র বিরুদ্ধেও তৃণমূল লড়বে। ব্যানার্জি যোগ করেন, "বিজেপি যেভাবে তৃণমূল কর্মীদের খুন করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, আমরা তার বিরুদ্ধে লড়ব। আমরা রাস্তায় লড়ব, আমরা আদালতেও লড়ব।"
তৃণমূলের এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং সন্দীপ সাহা-সহ একদল বিদ্রোহী বিধায়ক দাবি করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন তাঁদের দিকে রয়েছে। তাঁরা বিরোধী দলনেতা (LoP) পদের জন্য দলের পছন্দ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরে ঋতব্রত ব্যানার্জি দাবি করেন যে, তাঁদের গোষ্ঠীকে অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় "প্রধান বিরোধী" হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে এবং স্পিকার "আমাদের দাবি" স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, "অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভেতরে তৃণমূল কংগ্রেসের এই দুই-তৃতীয়াংশ শক্তিশালী বিধায়ক দল 'আমি'-তে বিশ্বাস করে না, 'আমরা'-তে বিশ্বাস করে। যা যা নিয়ম আছে, আমরা সব নিয়ম মেনেছি, আর সেই কারণেই আমাদের অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রধান বিরোধী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা চাই মমতা ব্যানার্জি আমাদের প্রধান উপদেষ্টা হন, আমাদের এমন পরামর্শ দিন যা বিরোধী হিসেবে আমাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে ৮০ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আমাদের দাবিকে সমর্থন করেছেন, এবং সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।"
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।