
বিরোধীরা এখন টুকরে টুকরে গ্যাং। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে তো অশনি সংকেত। আমরাও তো চাই বিরোধীরা শক্তিশালী হোক। যারা সরকারকে ঠিক পথে পরিচালিত করবে। কিন্তু যারা নিজেরা কোনদিন ঠিক রাস্তায় চলেনি, তারা সরকারকে কি সঠিক দিশা দেবে? মানুষও মর্যাদা দিয়েছে, আমরা যে শক্তি ছিলাম তার থেকেও বেশি বিরোধীদের শক্তি দিয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের মধ্যে আত্মিক শক্তি নেই যে তারা লড়াই করবেন। সরকারে থাকতে অপকর্ম করেছেন তাই লড়াই করার শক্তি নাই। লড়াই করলে সত্যের পক্ষে থাকতে হয়। আমরা অপেক্ষা করবো। বিরোধীরা এক হয়ে সরকারের পক্ষে কাজ করবেন।
‘’রাজনীতিতে রোজ পরিবর্তন সম্ভব। কাল কি হবে আমরা জানি না। সেটা আমাদের জানার দরকারও নেই। বর্তমান ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার কাজ করছে, মানুষ খুশি আছে। কমপক্ষে নিজেদের মধ্যে লড়াই না করে সরকারের সঙ্গে থাকুন। পশ্চিম বাংলার উন্নয়ন এত বছর আটকে ছিল সেটা যাতে ঠিকঠাক হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে ঠিকঠাক হয়। বিরোধিতা করতে গিয়ে বিরোধীরা একসাথে নিজেরা থাকতে পারছেন না। এটা তো ঠিক নয়! বাকি পার্টি ওনাদের ওনারা ঠিক করবেন কি করবেন?''
বাংলায় একের পর এক শিল্প কারখানার উদ্বোধন নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন যে, ‘’এ কথা ঠিক তো মানুষ এই পরিবর্তনটাই তো চেয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকবে শিল্প আসবে। কাজ করার সুযোগ পান। বিজেপির ইমেজ আছে এইরকম ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক। যেদিন তাপসদা শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন সেদিনই আমার কাছে এলিগ্যান্ট স্টিল। যাদের পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে সাড়ে চারশ একরেরও বেশি জায়গা আছে। যেখানে তারা নির্বাচনের আগেও কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন, করতে দেওয়া হয়নি। আমি তাপসদাকে বলেছি তাদেরকে পাঠিয়েছি তারা শিল্প শুরু করতে চান। এভাবেই অনেকে আসছেন কথা বলছেন কাজ শুরু করতে চাইছেন শিল্প শুরু করতে চাইছেন। এইরকম শিল্প অনুকূল পরিবেশ গত ৫০ বছরে ছিল না। লাভটা সবার উঠানো উচিত।''
প্রথমে দরজা বন্ধ করলেও তৃণমূলের প্রাক্তন এমপিরা বিজেপিতে তাঁরই হাত ধরে। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘’শমীক ভট্টাচার্য্য তো এই ব্যাপারে একা সিদ্ধান্ত নেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয় আছে। কেন্দ্রীয় পার্টির বিষয় রয়েছে। উনাকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উনি সেটা পালন করেছেন। তবে এটা ঠিক পশ্চিমবঙ্গের যে রাজনীতির গতিবিধি আছে তার বিপরীত দিশাতে এটা হয়েছে। সেই জন্যই তাঁকে টার্গেট হতে হয়েছে। কিন্তু আমাদেরও রাজ্য সভাতে মেজরিটি চাই। কেন্দ্রীয় সরকারকে যদি কাজ করতে হয় তাহলে আমাদের দুই সভাতেই মেজরিটি লাগবে।''
‘’যারা রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন কেবল দলের সিম্বল পাল্টে আমাদের সিম্বলে থাকবেন। এই লোকগুলোর সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। তবে সুখেন্দু বাবু গুণী লোক। সংসদে আমার সঙ্গে কয়েকবার দেখা হয়েছে। তাকে কেউ বদমাশ লোক বলবে না। তিনি একমাত্র যিনি আমাদের মতই সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের নীতির বিরোধিতা করেছিলেন। এজন্য তাকে সাসপেন্ড হতে হয়েছিল। আর জি করে তিনি যেভাবে কথা বলেছিলেন তাঁর মেরুদন্ড আছে। এটা কেন্দ্রীয় পার্টির সিদ্ধান্ত। কাজেই সব ব্যাপারে শমীক দা-কে টার্গেট করতে হবে এটা ঠিক নয়।
‘’এরা বারবার আদালতকে ব্যবহার করে। আদালতে গিয়ে রক্ষাকবচ নিয়েছেন। আদালত যখন বারবার বলছে সহযোগিতা করুন। বলেছেন সহযোগিতা করবেন এখন উল্টো করছেন। উনি তো সিবিআই সহ অনেকের কাছেই বারবার গিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ভয় পাওয়ার তো কোনও কারণ ছিল না! আজকে একটা ভয়েস স্যাম্পল দিতে ভয় কেন? তারমানে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। উনারা যে ধরনের কাজ করেছেন বক্তব্য দিয়েছেন উসকেছেন, তার তো ফল ভোগ করতে হবে। বিচার ব্যবস্থার সামনে আসতে হবে।
‘’আমিও সেটাই বলবো, বিচার ব্যবস্থা বিচার করবে। পুলিশের দায়িত্ব আছে সুরক্ষা দেওয়ার। আমরাও তো আপিল করতাম এই ধরনের দুর্ঘটনা হলে আমরাও যেতাম। জেলায় কোন অনুষ্ঠানে যেতাম। এই তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতিরাই গাড়ি ঘিরে ধরে তাণ্ডব করতো গাড়ি ভাঙতো মাথা ফাটাতো আমাদের কর্মীদের। নির্বাচনের কিছুদিন আগে পর্যন্ত খগেন মুর্মু ও স্থানীয় বিধায়ককে রক্তাক্ত করা হয়েছিল সেই দৃশ্য আমরা ভুলিনি। তার বদলে যদি দু-একটা ডিম খেতে হয়? কি অসুবিধা আছে! ডিম তো বাড়িতেও খান বাইরেও একটু খান! সেদ্ধ করে খেতেন ,এখন কাঁচা খান।''