
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য প্রশাসন ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেল। বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা কার্যকর না-হওয়ার অভিযোগে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরাসরি দিল্লিতে তলব করল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার বিকেল ৩টের মধ্যে তাঁকে দিল্লির দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আশ্চর্যজনকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা ই-মেইল নয়, বরং সরাসরি ফোনের মাধ্যমেই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী, মুখ্যসচিব শুক্রবার সকালেই দিল্লি পৌঁছেছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
এই সংঘাতের মূলে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ। সূত্রের খবর, গত বছরের আগস্ট মাসে বারুইপুর পূর্ব ও ময়নার ৪ জন নির্বাচনী আধিকারিকের (২ জন ERO এবং ২ জন AERO) বিরুদ্ধে ভুয়ো ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ উঠেছিল। কমিশন তাঁদের সাসপেন্ড করার এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিলেও নবান্ন তা কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ। নবান্নর তরফে এই ঘটনাকে 'সামান্য ভুল' হিসেবে ব্যাখ্যা করে লঘু দণ্ডের আবেদন জানানো হলেও কমিশন তা খারিজ করে দেয়।
পাশাপাশি, কমিশনের অনুমতি ছাড়াই তিন আইএএস অফিসার—অশ্বিনী কুমার যাদব, রণধীর কুমার এবং স্মিতা পাণ্ডেকে বদলি করায় কমিশনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, এসআইআর চলাকালীন কমিশনের সম্মতি ছাড়া কোনও নির্বাচনী আধিকারিককে বদলি করা যাবে না। এছাড়া বসিরহাট–১-এর বিডিও সুমিত্র প্রতিম প্রধানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অতিরিক্ত এএইআরও নিয়োগের অভিযোগ এবং এসডিও-এসডিএম স্তরের আধিকারিকদের নির্বাচনী কাজে ঠিকমতো নিয়োগ না করার বিষয়গুলিও নজরে এসেছে কমিশনের।
ইতিমধ্যে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে কোনওরকম বাধা বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের নির্দেশে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ডেডলাইন স্থির করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য কমিশনের এই সক্রিয়তাকে 'ঔদ্ধত্য' বলে সমালোচনা করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে কমিশন বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তীর জন্য এটি একটি কঠিন প্রশাসনিক পরীক্ষা। ভোটের আগে এই টানাপোড়েন বাংলার রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।