বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির নেতা তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির নেতা তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সকালে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেকভাইকে, তাঁর দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।'

বাংলা ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতাও নিজের পোস্টে স্মরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখা হবে বলেও কামনা করেছেন। লিখেছেন, 'আমাদের সঙ্গে সব সময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।'

১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ টিতে ভোট হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে জামাতের প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়। সন্ধে থেকে ভোটগণনা শুরু হয়েছে। প্রবণতা অনুযায়ী, দুই–তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই যুগ পর সরকার গঠন করতে চলেছে বিএনপি। সর্বশেষ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে এ পর্যন্ত ২০৭ আসন পেয়েছে বিএনপি ও তাঁদের জোটভুক্ত প্রার্থীরা। আর জামায়াতে ইসলামী ও মিত্র দল পেয়েছে ৭৩টি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্যরা পেয়েছেন সাতটি আসন। বাকি বেশ কয়েকটি আসনেও নিশ্চিত জয়ের পথে রয়েছে বিএনপি। সব মিলিয়ে দুই তৃতীয়াংশ আসন পাচ্ছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। দুটি আসনেই তিনি জয় পেয়েছেন।

তারেক রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার পুত্র, যারা স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক অঙ্গনের দুই উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ এবং বিদেশে শিক্ষিত রহমান একজন কৌশলবিদ এবং সংগঠক হিসেবে দলীয় স্তরে উন্নীত হয়েছিলেন, এমনকি যখন তাঁর মা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়কালেও তিনি বিএনপির নেতা হয়ে ওঠেন।

১৭ বছর ধরে রহমান লন্ডনে স্ব-নির্বাসনে ছিলেন। ২০০৭ সালে সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এক বছর পরে ২০০৮ সালে তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কারণ হেফাজতে গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগে তাঁকে এতটাই দুর্বল করে ফেলেছিল বিমানের মধ্য়ে হুইলচেয়ারে করে তাঁকে নিয়ে যেতে হয়েছিল। হাসিনার পরবর্তী ১৫ বছরের শাসনামলে রহমানকে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যদিও তারেক অভিযোগ অস্বীকার করেন। রাজনৈতিকভাবে তাঁকে বাংলাদেশ থেকে দূরে রাখার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই মামলা করা হয় বলে দাবি করেছিলেন তারেক।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের উৎখাত এবং পরবর্তী আদালতের রায়ে তারিকের সাজা বাতিল হয়। এরপর রহমান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে আসেন। বিপুল জনতা তাঁকে স্বাগত জানায় এবং দেশে নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঞ্চার হয়। ফিরে আসার পর তিনি ভোটার তালিকায় নামও তোলেন। যা তাঁকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম করে।