Gig Workers Strike: সকাল থেকে রাত, তারা দৌড়ে বেড়ান এদিক দিকে ওদিক। গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেন বিভিন্ন সামগ্রী (gig workers strike)। এবার তারাই ধর্মঘটে। কলকাতায় এবার ধর্মঘটের পথে হাঁটলেন ব্লিঙ্কিট-এর পার্টনাররা (gig workers protest)।
ন্যায্য পাওনা এবং অন্যান্য একাধিক সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে ২০২৬ সাল, অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথমদিন থেকেই প্রতিবাদ শুরু করেছেন তারা। মূলত, পাঁচ দফা দাবি নিয়ে ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন দক্ষিণ কলকাতারা খানপুরের ব্লিঙ্কিট পার্টনাররা।
যদি সেই দাবিগুলি পূরণ না হয়, তাহলে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। ঠিক কয়েকদিন আগেই রানিকুঠিতে ফ্লিপকার্ট মিনিটসের গিগ কর্মীরা ধর্মঘটে শামিল হন। এবার সেই একই দাবিতে অ্যাপ ডেলিভারি সংস্থা ব্লিঙ্কিট-এর কর্মীরাও স্ট্রাইকের কল দিয়েছেন।
দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের অন্তর্গত নেতাজিনগর থানা এলাকায় বাঁশদ্রোণীর খানপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় কর্মরত প্রায় ৬০ জন ব্লিঙ্কিট পার্টনার বৃহস্পতিবার থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করছেন, গত ২ মাস ধরে একাধিকবার বলার পরেও কর্মীদের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানের বিষয়ে কোনওরকম গুরুত্ব দেখায়নি কর্তৃপক্ষ। বলা চলে, ব্লিঙ্কিট কর্মীদের কথায় কর্ণপাতই করেনি ম্যানেজমেন্ট।
গিগ শ্রমিকদের কথায়, “আমাদের প্রধান দাবি হল বেতন। খুবই কম পারিশ্রমিকে আমাদের কাজ করতে হয়। এখানে পে-আউটের যে সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে গত ২ মাস ধরে সবাই মিলে ম্যানেজমেন্টকে বলা সত্ত্বেও কোনও গুরুত্ব দেননি তারা। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই আমরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। প্রতিদিন ১২-১৫ ঘণ্টা কাজ করার পরেও, আমাদের দৈনিক আয় ৫০০-৬০০ টাকারও কম। তাছাড়া শনিবার এবং রবিবার অর্ডারের পরিমাণ অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। কিন্তু সেইদিনগুলিতে ৯ ঘণ্টা কাজ করেও আমাদের কেউ ২২১ টাকা এবং আবার কেউ মাত্র ২৩৭ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন।"
পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট ওয়ার্কিং আওয়ার, দৈনিক ইনসেনটিভ বৃদ্ধি, ম্যানেজমেন্টের সহযোগিতা এবং সামাজিক সুরক্ষা।
সবথেকে বড় বিষয়, বাইকের মাসিক ইএমআই এবং তেলের দাম নিজেদের পকেট থেকেই দিতে হয়। এমনকি, দুর্ঘটনা অথবা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় খরচও নিজেদেরই বহন করতে হয়। অন্যদিকে, এই বিষয়ে গিগ কর্মীদের পাশে গিয়ে সবার প্রথমে দাঁড়িয়েছে বামেদের শ্রমিক সংগঠন তথা সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নসের (CITU) উইং ওয়েস্ট বেঙ্গল গিগ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। তাদের নেতৃত্বেই নেতাজিনগর থানায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও জানানো হয়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।