
তিনদিনের সফর শেষে মঙ্গলবার রাতেই দিল্লি ফিরে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ (National Election Commission)। তার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়ে গেলেন জাতীয় নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারও। কী বলেছেন তিনি? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।
জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) বলেন, ‘’২৯৪ টি সিট। সমস্ত পোলিং স্টেশনে ওয়েবকাস্টিং ব্যবস্থা থাকবে। ভোট হবে আইন মেনেই। ভয়হীনভাবে নিয়ম মেনে ভোট হবে। পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে।'' তিনি আরও জানান যে, SIR- এর কাজকর্ম এখনও চলছে। মহারাষ্ট্রে ১ দফায় ভোট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে কত দফায় ভোট হবে সেটা পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলার ওপরে নির্ভর করছে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠককে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে জ্ঞানেশ কুমার বলেন যে, ‘’আমলা, মন্ত্রী, সরকারি কর্মী, পুলিশ কেউ যদি কোনও কেউ আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত কয়েকদিন Law and অর্ডার সিচুয়েশন তৈরি হয়েছে এই রাজ্যে।'' তিনি আরও বলেন, যে, ‘’ সমস্ত রাজনৈতিক দল, পুলিশ, ডিজি, পুলিশের সব কর্তারা, CS, রাজ্য -এর মন্ত্রী আমলারা সবাই আশ্বস্ত করেছে হিংসা মুক্ত ভোট হবে জনপ্রতিনিধি আইন ও SIR অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।''
‘’গত ৯ ও ১০ মার্চ রাজ্যে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ—সংবিধান ও আইন মেনেই নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। কোনো ভয় বা প্রলোভনের কাছে মাথা নত করা চলবে না। 'ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিস রুলস ১৯৮০' এবং 'অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলস ১৯৬৮' অনুযায়ী :- কোনও আধিকারিক পক্ষপাতিত্ব করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।''
একই সঙ্গে তিনি আরও জানান, ভোট হল গণতন্ত্রের সবথেকে বড় উৎসব। এই সময় কোনও বৈধ নাগরিক যাতে ভোটদানে বিরত না থাকে তার জন্য তাদের ভোটদানের ব্যাপারে উৎসাহ যোগাতে হবে। পোলিং স্টেশনগুলিকে উৎসবের মেজাজে সাজিয়ে তুলতে হবে। যাতে ভোটাররা আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন। এছাড়াও এই সময়ে জাতীয় সড়ক ও রেলপথে কড়া নজরদারি চালাতে হবে। অনলাইন লেনদেন ও ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
ড্রাগস, মদ, নগদ টাকা এবং ভোটারদের দেওয়া উপহারের প্রবেশ পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। পুলিশ, আবগারি, জিএসটি এবং বনদফতরের যৌথ টিম গঠন করে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিইও (DEO) এবং পুলিশ সুপারদের (SP) দায়িত্ব রয়েছে ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার। লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের জন্য বেঞ্চের ব্যবস্থা এবং কিউ ম্যানেজমেন্ট (Queue Management) করতে হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন (Nation Election Commission Of India)।
এই বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমার আরও বলেন যে, ‘’সেন্ট্রাল অবজার্ভার বা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের বিবরণ সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ্যে আনতে হবে। এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করার বন্দোবস্ত করতে হবে। যাতে বিধানসভা নির্বাচনের সময় কোনও ধরনের অপপ্রচার, ভুয়ো খবর কেউ ছড়াতে না পারে।'' এরজন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভোট কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ আধিকারিক, মিডিয়া ও কমিউনিকেশন অফিসার এবং মাস্টার ট্রেইনারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত ১১ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ৪,৭১৯টি সর্বদলীয় বৈঠক করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৮,০০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি বুথে যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য জেলাস্তরের আধিকারিকদের সরাসরি দায়বদ্ধ করা হয়েছে।