- Home
- India News
- পশ্চিমবঙ্গের 'SIR' প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
পশ্চিমবঙ্গের 'SIR' প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
Supreme Court On WB Sir: বঙ্গের এসআইআর-এর কাজ আরও নির্ভুল ভাবে করতে এবার নয়া অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিলো সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। কী কী কাজ করবে এই অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল? বিশদে জানতে দেখুন সম্পূর্ণ ফটো গ্যালারি…

সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) মামলার শুনানি
চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়েছে এবং যাদের নথি গ্রহণ করা হচ্ছে না তাদের হয়ে সাওয়াল করে গত সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন রাজ্যের আইনজীবী তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী মেনকা গুরুস্বামী। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও ন্যায্য ভোটারদের বাদ দেওয়া হবে না। বৈধরা থাকবেন, অবৈধরা বাদ পড়বেন। এদিন শুনানিতে গুরুস্বামী দাবি করেন, ৪০ লক্ষ ম্যাপড ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নথি নেওয়া হচ্ছে না।
জুডিশিয়াল অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ
তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) নিয়োজিত জুডিশিয়াল অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। রীতিমতো ভর্ৎসনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘’জুডিশিয়াল অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে মেনে নেওয়া হবে না। কোন সাহসে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? সবাইকে ওয়ার্নিং দেওয়া হচ্ছে, মেনে নেওয়া হবে না।''
শীর্ষ আদালতে SIR মামলার শুনানি
পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal SIR) চলা এসআইআর প্রক্রিয়া নির্ভুল রাখতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের (supreme court)। মঙ্গলবার এসআইআর মামলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্য। মঙ্গলবার সেই আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে দাবি করার এখনও ৫৭ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি করা বাকি। তার উত্তরে প্রধান বিচারপতি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ ১৬ হাজার নিষ্পত্তি হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গের ৫০০-র বেশি এবং ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড থেকে ২০০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এসআইআর-এর কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম তোপে মেনকা গুরুস্বামী
এরপরই কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) নিয়োজিত জুডিশিয়াল অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। এই ধরনের আবেদন কেন করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি পরিষ্কার বলেন, ''জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এই ধরনের মামলা করবেন না। ভুল বার্তা যাবে। জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন। যাঁরা বৈধ ভোটায, তাঁদের যুক্ত করা হবে।'' রাজ্যের করা এই পিটিশনকে প্রিম্যাচিওর বলে মন্তব্য করে তা প্রত্যাহার করে নিতে মেনকা গুরুস্বামীকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি (Surya Kant)।
সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি
রাজ্যের অপনা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) এদিন আদালতে যাবি করেন যে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হোক। তাতে সহমত পোষণ করে প্রধান বিচারপতি জানান নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তারপর এ নিয়ে যথাযথ নির্দেশ দেবে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
রাজ্য এবং কমিশনের সততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ
এদিন রাজ্য এবং কমিশনের সততা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে আদালত। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘’ভোটের আগেই এই কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে। আমরা প্রয়োজনে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে অবমাননার নোটিস দিতে পারি। যে পরিস্থিতি এসেছে, তাতে আমরা সব পক্ষকে সন্দেহের আওতায় রাখছি।'' রাজ্য এবং কমিশনকে জুডিশিয়াল অফিসারদের সব রকম ভাবে সাহায্য করার আবারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন যে, ‘’রাজ্য এবং কমিশনকে জুডিশিয়াল অফিসারদের সব রকম ভাবে সহায়তা করতে হবে। যখন জুডিশিয়াল অফিসারদের লগ-ইন আইডি লাগবে, তখনই ইসিআইকে তার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।''
অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
এখনো কেন অতিরিক্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে রাজ্য। তার উত্তরে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, অতিরিক্ত চূড়ান্ত তালিকা দ্রুত প্রকাশিত হবে। এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন। এস আই আর প্রক্রিয়ার কাজ নির্ভুল করতে এক প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সেখানে অন্যান্য বিচারপতিরাও থাকবেন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
বঙ্গে এঅসআইআর-এ কত নাম বাদ?
সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বাদ পড়েছে প্রায় ৬৭ লক্ষ নাম। এই বিপুল সংখ্যক বাতিল আবেদনের কারণে আপিলের চাপও বাড়বে বলে মনে করছে আদালত। তাই এই ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো যাবে। এই ট্রাইব্যুনালের সমস্ত খরচ বহন করবে কমিশন। এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী প্রাক্তন বিচারপতিদের নাম সুপারিশ করতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি Surya Kant।

