
Jahangir Khan News: জাহাঙ্গির নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতেই তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য। ২৬ মে পর্যন্ত জাহাঙ্গিরের রক্ষাকবচ বহাল রাখল আদালত। তারপরে আদালত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে জানিয়ে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। তাঁকে পুরনো এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে এই অভিযোগ করে কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচের আবেদন করেছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য জাহাঙ্গিরকে ২৬ মে পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেন। আদালতে জানিয়ে দেয় ২৬ মে পর্যন্ত পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। এরপরই মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জাহাঙ্গির ফলতার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন।
জাহাঙ্গির নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করতেই বুধবার রাজ্য তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করার আবেদন জানায় কলকাতা হাইকোর্টে। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর এজলাসে শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় সওয়াল করে বলেন, 'জাহাঙ্গির খান ভোটে প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি নির্বাচনী লড়াই থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাই আদালত নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিক।'
রাজ্যের এই বক্তব্য শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য বলেন, '২৬ মে পর্যন্ত রক্ষাকবচ থাক। তারপরে আদালত এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করে দেখবে।' বৃহস্পতিবার ফলতায় পুনর্নির্বাচন। ২৪ তারিখ ফল ঘোষণা হবে। আদালতের এদিনের নির্দেশে আপাতত স্বস্তি জাহাঙ্গিরের। ২৬ মে-এর পর আদালত কী নির্দেশ দেয় সেই দিকেই নজর থাকবে সকলের।
অন্যদিকে, ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। শুধু ভোটের ময়দান ছাড়াই নয়, সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। তারপরই জাহাঙ্গির খানকে দল থেকে সাসপেন্ড করার দাবি তৃণমূলের বিধায়কদের একাংশের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। সূত্রের খবর, তৃণমূল প্রার্থীর আকস্মিক ‘আত্মসমর্পণ’ কোনওভাবেই ভালো চোখে দেখছে না দল। মঙ্গলবার দলীয় বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উঠে ফলতার প্রসঙ্গ।
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে বলেন, ''ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে জাহাঙ্গিরের অন্তত একবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল।'' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথা বলতেই ক্ষোভপ্রকাশ দলীয় বিধায়কদের একাংশের। ভোটের মুখে প্রার্থীর এমন পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। অভিষেককে নিশানা করে জাহাঙ্গির খানকে দল থেকে সাসপেন্ড করার দাবি দলীয় বিধায়কদের একাংশের।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।