সই জালিয়াতির মামলায় বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন সপ্তাহের জন্য গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিয়েছে। বিচারপতি কৌশিক চন্দ দলের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন।

সই জালিয়াতির মামলায় বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন সপ্তাহের জন্য গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিয়েছে। বিচারপতি কৌশিক চন্দ দলের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, দিল্লি থেকে ফেরার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় তাঁকে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে মামলার পরবর্তী শুনানির মধ্যবর্তী সময়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, "নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তদন্তকারী সংস্থা আইন অনুযায়ী তল্লাশি ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চালাতে পারে... (তবে) সংস্থাটি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে) আগামী দুই সপ্তাহ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। যদি আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হয়, তবে সংস্থাটিকে ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে।" আদালত আরও জানায়, "আবেদনকারীকে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। সংস্থাটি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। প্রয়োজনে আবেদনকারীকে সংস্থার সঙ্গে দেখা করতে হবে।"

তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবটিতে অন্যান্য বিধায়কদের জাল সই থাকার অভিযোগ ওঠার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তৃণমূলের দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা—অভিযোগ করেন যে ওই প্রস্তাবটি ছিল ভুয়ো। তাঁরা মোট ৭০টি সইয়ের মধ্যে ১৪টি সই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে এবং সিআইডি (CID) তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। পরবর্তীতে তৃণমূল ওই দুই বিধায়ককেই দল থেকে বহিষ্কার করে। অভিযোগ করা হয় যে তাঁরা দলবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের নাম প্রকাশ করার ঠিক কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই তৃণমূল একের পর এক সংকটের মুখে পড়েছে। ওই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতাচ্যুত হয়। কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে এই পরাজয়ের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও বিবাদ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এমনকি দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনই দল ভেঙে বেরিয়ে এসে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তৃণমূল সূত্রে খবর, বিকেল চারটে নাগাদ কলকাতায় ফিরে সন্ধ্যা ছ’টার মধ্যে ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে যাবেন তিনি। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেকের এই মামলায় আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করার কথা ছিল কল্যাণের। কিন্তু শুনানির আগে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। এই মামলায় অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অয়ন ভট্টাচার্য।