
মীনাক্ষী, দীস্পিতাদের তালিকায় সিপিএম-এর নতুন সংযোজন আফরিন বেগম। সিপিএম-এর তরুণ তুর্কী। বালিগঞ্জ কেন্দ্রের মত গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভার প্রার্থী করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মহম্মদ সেলিমরা। প্রশ্ন কে এই তরুণ তুর্কি। যদিও প্রার্থী হওয়ার আগেই নজর কেড়েছেন আফরিন। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ যখন রাজ্য সফর করেছিলেন তখন সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সেলিম-শমীকদের পাশাপাশি তিনিও উপস্থিত হয়েছিলেন। SIR থেকে শুরু করে নির্বাচন সব বিষয়ে তিনি জোরালো মতামত রেখেছিলেন। তারপরই রাজ্য রাজনীতিতে উঠে আসে আফরিন বেগমের নাম। তবে বালিগঞ্জের প্রার্থী হয়েই তিনি বড় চমক দিয়েছেন। কারণ আফরিনের বয়স মাত্র ২৯।
মূলত কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাকে কেন্দ্র করেই আফরিন বেগমের রাজনীতির কর্মযজ্ঞ চলে। সিপিআইএম রাজ্য কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ স্তরে সক্রিয় সদস্য তিনি। বাম যুব সংগঠন থেকেই তাঁর উত্থান। মূলত SFI থেকেই উত্থান তরুণ তুর্কির।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের গবেষক। পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনের পরিচিত মুখ। ২০২৫ সালে সিপিআইএম-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্মেলনে নতুন রাজ্য কমিটি গঠনের সময় তিনি সরাসরি রাজ্য স্তরের কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত হন। ‘We Are Hiring’ শীর্ষক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দক্ষ কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছিল,সেই পক্রিয়ার মাধ্যমেই দলের মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত হল। যদিও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হস্টেলে নবাগত ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূল ছাত্রনেতাদের কার্যকলাপের প্রতিবাদে যে আন্দোলন হয়েছিল সেখানে পরিচিত মুখ ছিলেন আফরিন।
বালিগঞ্জ কেন্দ্র কলকাতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়ের মত বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী শতরূপা। দুজনেই বয়স আর অভিজ্ঞতার ভারে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন আফরিনের থেকে। যদিও আফরিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, 'নির্বাচনে যখন নেমেছি তখন তৈরি হয়েই নেমেছি। আমরা বাংলা বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছি। বাংলার মানুষকে রক্ষা করার লড়াইয়ে নেমেছি। ' পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন শোভনদেব বা শতরূপা কেউই হেভিওয়েট নন। আসল হেভিওয়েট হল বালিগঞ্জের মানুষ। তাদের কাছে পৌঁছানোই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেছেন আফরিন বেগম।