
'নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোট চুরি করে বিজেপি জিতেছে অন্য রাজ্যে, ঘেঁচু করবে নির্বাচন কমিশন', আইপ্যাক কাণ্ডের প্রতিবাদে যাদবপুর থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত জনতা ও মঞ্চে উপস্থিত সকলকে মজা করে বলেন, ঘেঁচুর মানে ও ইংরেজি খুঁজে বের করতে। দেখুন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তাই আমরাও একটু জানার চেষ্টা করছি ও আপনাদের জানানোর চেষ্টা করছি। আচ্ছা, আপনি কি ঘেঁচু শব্দটা শুনেছেন? কথাবার্তায় ব্যবহার করেন? এর মানে কি জানেন? চলুন জানা যাক।
আপনি যদি কোনও মানুষকে এই প্রশ্ন করেন, দেখবেন শতকরা ৯৯ জনের বেশি মানুষই ঘেঁচুর মানে বা ইংরেজি জানেন না। ভাববাচ্যে কেউ কেউ বলে দিলেও,আসলে ঘেঁচু কী বস্তু আর ইংরেজি বলা বেশ মুশকিল। আসলে কচুর সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে ঘেঁচু বলা হয়। অনেকেই বলেন, কচু ঘেঁচু। ঘেঁচু আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। এর লম্বা লম্বা পাতা আছে। মূলের সঙ্গে কচুর মতো দেখতে অংশটিকেই ঘেঁচু বলা হয়। ঘেঁচু খাওয়া যায়। তরকারি করে, সেদ্ধ করে। চাইলে শুকিয়ে ছাতু করেও খাওয়া যায়। ঘেঁচু খেতে খুবই সুস্বাদু। আজও গ্রাম বাংলার অনেক জায়গায় ঘেঁচু খাওয়া হয় রান্না করে। অনেকে বলেন, দুর্ভিক্ষ বা যুদ্ধের সময় খাবারের টান থাকলে বহু মানুষ ঘেঁচু রান্না করে খেতেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা বলেন, ঘেঁচু করবে নির্বাচন কমিশন। এর আগেও তিনি ঘেঁচু শব্দটি বিভিন্ন সভায় বক্তব্য় রাখতে গিয়ে বলেছেন। কয়েকদিন আগে এসআইআর নিয়ে বাঁকুড়ার বড়জোড়া থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেও তিনি বলেন, 'জিতবে না কচু হবে। জিতবে না ঘেঁচু হবে।' আসলে এই ঘেঁচু শব্দটি ব্যবহার করি নেতিবাচক অর্থে। কেউ কিছু করতে পারবে না, এটা বোঝাতেই ব্যবহার করা হয়। কোনও কিছু গোলমাল হয়ে যাওয়া পণ্ড হওয়া বোঝাতেও আমরা এই ঘেঁচু শব্দটা ব্যবহার করি। এ ছাড়াও ব্যঙ্গ করে বা কোনও অজ্ঞতা বোঝাতেও ঘেঁচু শব্দের ব্যবহার রয়েছে। অবজ্ঞার্থে 'কিছুই না' বা তুচ্ছ জিনিসকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় ঘেঁচু (যেমন- তুমি আমার ঘেঁচু করবে), এবং কখনও কখনও এটি নিষ্প্রয়োজনীয় বা বাজে জিনিসকেও নির্দেশ করে (যেমন-কচু-ঘেঁচু)।