TMC Rally in Kolkata Today: যাদবপুর থেকে প্রতিবাদের ঝাঁঝ বাড়াল তৃণমূল! রাজপথে দাঁড়িয়ে মমতা বললেন, " আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত হবে"

Subhankar Das   | ANI
Published : Jan 09, 2026, 05:11 PM ISTUpdated : Jan 09, 2026, 05:19 PM IST
TMC Rally in Kolkata Today

সংক্ষিপ্ত

TMC Rally in Kolkata Today যাদবপুর থানা হয়ে, সাউথ সিটি, লর্ডসের মোড়, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, টালিগঞ্জ ফাঁড়ি এবং রাসবিহারী হয়ে মিছিল এসে পৌঁছয় হাজরা মোড়ে। সেখানেই বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

TMC Rally in Kolkata Today: রাজপথে মমতা। কার্যত, অগ্নিকন্যার মতোই রাজনীতির ময়দানে ফের একবার দাপট দেখালেন তিনি (tmc rally in kolkata today live)। ঘতনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। আই-প্যাকের অফিস এবং আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি (tmc mamata banerjee news)। 

“রাজপথে মমতা” অগ্নিকন্যার মতোই রাজনীতির ময়দানে ফের একবার দাপট

আর তারপরেই সেখানে পৌঁছে যান খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডি-র তদন্ত চলাকালীনই সোজা অফিসের ভিতর ঢুকে গিয়ে ফাইল বের করে নিয়ে আসেন তিনি। মমতা অভিযোগ করেন, মাত্র কয়েকমাস বাকি আছে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের। তার ঠিক আগে তৃণমূলের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগাচ্ছে তারা। এমনকি, এসআইআর-এর নামে কমিশনকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। 

আর ঠিক তারপরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার কলকাতার রাস্তায় নামলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, তৃণমূল তাদের ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি তৈরির ক্ষেত্রে আই-প্যাকের মতো পেশাদার সংস্থার সাহায্য নেয়। যারা প্রফেশনালভাবে ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে থাকে। ফলে, তাদের অফিসে ইডি হানা দিতেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মমতা। আর তারই প্রতিবাদে শুক্রবার, যাদবপুর ৮বি মোড় থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দুপুর ৩টে থেকে শুরু হয় এই মিছিল। 

বিপুল মানুষের ভিড় দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য

যাদবপুর ৮বি মোড় থেকে সেই মিছিল শুরু হয়। তারপর যাদবপুর থানা হয়ে, সাউথ সিটি, লর্ডসের মোড়, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, টালিগঞ্জ ফাঁড়ি এবং রাসবিহারী হয়ে মিছিল এসে পৌঁছয় হাজরা মোড়ে। সেখানেই বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

তিনি বলেন, তাদের দলের আভ্যন্তরীণ তথ্য ইডির মাধ্যমে লোপাট করার চেষ্টা করছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে তিনি রাস্তায় আছেন। তবে শুধু তিনি একা নন। বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কর্মী এবং সমর্থক এই মিছিলে হাঁটেন। গোটা রাস্তা তৃণমূলের পতাকা, পোস্টার এবং ফেস্টুনে মুড়ে ফেলা হয়। সেইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী হাঁটবেন বলে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কার্যত, হাজরা মোড়ের একটি দিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্য একটি দিক দিয়ে দুই-দিকের গাড়ি চলাচল করানো হচ্ছিল। 

সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাস্তার দুধারে বিপুল মানুষের ভিড় দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য। কখনও মমতা হাঁটলেন, আবার কখনও তিনি সারলেন জনসংযোগ। শুক্রবারের মিছিলে পা মেলান সাংসদ অভিনেতা দেব এবং বিধায়ক অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী সহ আরও অনেকে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং রাজ্যের মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস সহ একাধিক প্রথম সারির নেতাকেও এদিন মিছিলে দেখা যায়। নিঃসন্দেহে বিরাট জমায়েত নিয়ে তৃণমূল এদিন প্রতিবাদ মিছিল করে দেখাল কলকাতার বুকে।   

৭ কিমি পথ হেঁটে হাজরাতে পৌঁছলেন তৃণমূল নেত্রী। সেখানেও ছিল বিপুল মানুষের ঢল।     

ঠিক কী জানালেন মমতা?

ঐতিহাসিক হাজরা মোড়ের সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “আমি প্রথমেই সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এতটা পথ হেঁটেও কেউ ক্লান্ত হয়ে যায়নি। নব-কলেবরে বাংলা আবার জেগে উঠেছে। রাস্তার দুধারে মানুষের ভালোবাসা এবং শুভেচ্ছা পেয়ে আমি আপ্লুত। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন। আপ্নারাই আমাদের লালনপালন করেছেন। অনেক লড়াই করেছি আমরা জীবনে। এটা বাংলা!  আমি সবসময় কাজের মধ্যে থাকি। আমাকে কেউ আঘাত করলে আমার পুনরুজ্জীবন হয়। আমি আপনাদের আবার বলি। এটাই তৃণমূল কংগ্রেস। যারা তৃণমূলকে অনেক বাজে বাজে কথা বলেন, অপপ্রচার করেন, তারা জানেন না, তৃণমূল কর্মীরা দলের সম্পদ। ফাঁসির মঞ্চে যেতেও কেউ ভয় পায়না।"

মমতার কথায়, “এসআইআর-এ মানুষের হয়রানি করছ। অন্তঃসত্ত্বা মা-কে সিঁড়ি দিয়ে ওঠাচ্ছ! লজ্জা করে না? অত্যাচারী পার্টি। এটা পার্টি না দোপাটি? স্বাধীনতা আন্দোলনে বিজেপির ভূমিকা কী? আসামে কেন এসআইআর হল না? ওরা ভোট চুরি করে মহারাষ্ট্র দখল করেছে। নির্বাচন কমিশন কী করবে আমার? ঘেঁচু করবে। তুমি আমাকে জেলে ভরবে? সুস্থ বাঘের থেকেও আহত বাঘ অনেক ভয়ঙ্কর। দেশের টাকা বাইরে বেচে দিয়েছ, আর আজকে গ্রামের গরীবের লোকের টাকা আটকে রেখেছ। চার বছর ধরে রাস্তাঘাটের টাকা, জলের টাকা, মিড ডে মিলের টাকা বন্ধ।"

বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ

তৃণমূল সুপ্রিমো জানান, “জনগণ ঠিক করবে, কাকে ভোট দেবে। আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত হবে। দিল্লীতে আমাদের এমপি-দের চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেক রাজ্য জোর করে দখল করেছেন। ভাবছেন এবার বাংলা দখল করবেন? বাংলা শুনলে পরিযায়ী শ্রমিকদের মারছে। আমরা সবাইকে নিয়ে থাকি। এখানে কারও উপর কোনও অত্যাচার করা হয়? কয়লার টাকা শুভেন্দু অধিকারী পাঠায় অমিত শাহর কাছে। আমার কাছে সব পেনড্রাইভ রাখা আছে। সীমা পেরিয়ে গেলে কিন্তু আর সামলে রাখতে পারবেন না। আমি মুখ খুললে সারা পৃথিবীতে হইচই পড়ে যাবে। কিন্তু আমি দেশকে ভালোবাসি বলে চুপ থাকি। আমি কোনও অন্যায় করিনি। তোমরা ডেটা চুরি করছ এসআইআর-এর মাধ্যমে। মানুষকে আমি ভালোবাসি। জোড়াফুলকে রক্ষা করতে না পারলে, মানুষকে বাঁচাব কী করে? কানকাটার দলগুলো সব ভুলে গেছে। দাঙ্গাকারীরা আজ ক্ষমতায়। ভুলে গেছেন গোধরা? ভুলে গেছেন উন্নাও? খালি বড় বড় কথা। সঙ্গে জুটেছে কয়েকটা গদ্দারের দল।"

তিনি আরও যোগ করেন, "বাংলা দখল করবে? সব বাদ দিয়ে বরবাদ করবে বলে ভেবেছে এরা। এই যে দেব বসে আছে। কত বছর ধরে বাংলায় সিনেমা করছে। তাঁকেও ডেকে পাঠিয়েছে। ছিঃ, লজ্জা। ধিক্কার বিজেপি। ভোটে আসবে তো? আমি বানিয়ে রাখব নাড়ু। আর বাংলার মেয়েরা মনে করিয়ে দিল, ‘মার ঝাড়ু মার, ঝাড়ু মেরে ঝেঁটিয়ে বিদায় কর'। এটা বাংলার মাটি, মাথায় রাখবেন। বাংলায় করলে হামলা, বাংলা বুঝিয়ে দেবে, বাংলা কী জিনিস। কারণ, বাংলা কোনওদিন মাথা নত করেনি, করবেও না। ২৬-এ আমাদের নয়, তোমাদের পতন হবে। আগামীদিনে হবে খেলা। ফাটাফাটি খেলা। দারুণ অগ্নিবাণে, বজ্রকঠিন খেলা। পাড়ায় পাড়ায় বিজেপির মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দেন। বিদায় আসন্ন ওদের। কলকাতা থেকে খেলা শুরু হবে, দিল্লীতে গিয়ে শেষ হবে। বিজেপিকে রাখা যাবে না। সবাই সজাগ থাকবেন। জয় হিন্দ, জয় তৃণমূল কংগ্রেস, জয় বাংলা। বিজেপি হাটাও, বাংলা বাঁচাও।"   

এই সভা থেকে সিপিএম-এর বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। একটা কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি যেন শুরু হয়ে গেল এদিন থেকেই।  

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

মুখ্যমন্ত্রীর হাতের সবুজ ফাইলে কিসের তালিকা? ED সূত্রে খবর গোপন নথি রাখা হয়েছিল বাজেয়াপ্তের জন্য
Winter Update: হাড় কাঁপানো শীতের মধ্যেই সাগরে গভীর নিম্নচাপ, এবার কি বৃষ্টি হবে?