
কলকাতায় মোট ১১টি বিধানসভা আসন আছে।
সেগুলির মধ্যে দক্ষিণ কলকাতায় কলকাতা বন্দর, ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ বিধানসভা আসনগুলি রয়েছে। মধ্য কলকাতায় এন্টালি, চৌরঙ্গী, জোড়াসাঁকো-তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র আছে।
উত্তর কলকাতায় শ্যামপুকুর, মানিকতলা, বেলেঘাটা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, এই চারটি বিধানসভা আসন রয়েছে।
কলকাতায় ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই ১১টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী কারা, গতবার ফল কেমন হয়েছিল, এবার সেখানে ভোটে জেতার ফ্যাক্টরগুলি। দেখে নিন এই ফোটো গ্যালারিতে
ফিরহাদ হাকিম (তৃণমূল)
রাকেশ সিং (বিজেপি)
ফৈয়াজ খান (সিপিএম)
আকিব গুলজার (কংগ্রেস)
গত তিনটি বিধানসভা ভোটে বন্দর থেকে অনায়াসে জিতে আসছেন তৃণমূলের দাপুটে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। গতবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ এই আসনে জেতেন প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে, বিপুল ব্যবধানে।
বিজেপি তাকিয়ে তাদের প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মা, আর সংখ্য়ালঘু ভোটব্য়াঙ্কে ভোট ভাগাভাগি নিয়ে
মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় (তৃণমূল)
শুভেন্দু অধিকারী (বিজেপি)
শ্রীজীব বিশ্বাস (সিপিএম)
প্রদীপ প্রসাদ (কংগ্রেস)
পুণম বেগম (জেইউপি)
২০২১ বিধানসভা উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটে পেয়ে জিতেছিলেন। সে বছর হওয়া নির্বাচনে তৃণমূলের শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় ভবানীপুরে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে হারিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ (৩৫ শতাংশ)-কে। ভবানীপুরে এখনও পর্যন্ত বিধানসভা ভোটে অপরাজিত তৃণমূল। তবে লোকসভা ভোটে এখানে বিজেপি আশার আলো দেখেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এখানে বড় ফ্য়াক্টর হতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীর মত হেভিওয়েট নেতা প্রার্থী হওয়ায় বিরোধী ভোট এককাট্টা হতে পারে, যেটা তৃণমূলকে চিন্তায় ফেলতে পারে। সঙ্গে অবাঙালি ভোটও চিন্তায় রাখছে দিদিকে। এই কেন্দ্রের ৭৬ শতাংশ হিন্দু ভোটার এবং ২৪ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটারের ভারসাম্য এবং উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশা থেকে আসা পরিযায়ী ভোটারদের অবস্থান ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
দেবাশীষ কুমার (তৃণমূল)
স্বপন দাশগুপ্ত (বিজেপি)
মানস ঘোষ (সিপিআইএমএল)
আশুতোষ চ্য়াটার্জি (কংগ্রেস)
২০২১ বিধানসভা ভোটে এই আসনে ২১ হাজার ভোটে বিজেপির প্রার্থী সুব্রত সাহাকে হারিয়েছিলেন তৃণমূলের দেবাশীষ কুমার।
এবার ফ্যাক্টর-
প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া, এসআইআর-এর পর বিজেপি এই আসনে জয়ের আশা করেছে। অন্যদিকে, কখনও এই আসনে না হারা তৃণমূলও এবারও জয়ের ব্য়াপারে আশাবাদী।
শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় (তৃণমূল)
শতরূপা (বিজেপি)
আফরিন বেগম (সিপিএম)
রোহন মিত্র (কংগ্রেস)
২০২১ বিধানসভায় এই আসনে বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন তৃণমূলের প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্য়ায়। তাঁর মৃত্যুর পর খালি হওয়ার পর উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে বাবুল সুপ্রিয় জিতলেও, জোড়া ফুলের জয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমেছিল। সিপিএমের ভোট একলাফে সেখানে অনেকটা বাড়ে।
পালাবদলের ঝড় উঠবে কি?
নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল)
সন্তোষ পাঠক (বিজেপি)
ইমরান খান (কংগ্রেস)
সঞ্জয় বসু (বামফ্রন্ট)
গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে জিতে আসছেন তৃণমূলের নয়না বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। বর্ষীয়াণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী নয়না গত বিধানসভা ভোটে প্রায় ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন।
তৃণমূলের গড় হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে এবার অঘটনের জন্য সদ্য কংগ্রেস থেকে আসা কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠকের ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মার দিকে তাকিয়ে বিজেপি।
সন্দীপন সাহা (তৃণমূল)
প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল (বিজেপি)
আব্দুর রৌফ (সিপিএম)
কাশিফ রেজা (কংগ্রেস)
গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা স্বর্ণকমল সাহা। এবার তাঁর ছেলে সন্দীপন সাহা প্রার্থী। গতবার ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন তৃণমূলের স্বর্ণকমল, ২৮ শতাশ ভোট পান মূল প্রতিপক্ষ প্রিয়াঙ্কা ট্রিবেওয়াল।
এই আসনে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া, পরিবারতন্ত্র নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ রয়েছে। সেটা কতটা কাজে লাগাতে পারেন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা! তার ওপরে নির্ভর করছে অনেক কিছু।
বিজয় উপাধ্যায় (তৃণমূল)
বিজয় ওঝা (বিজেপি)
ভারত রাম তিওয়ারি (সিপিএম)
গত তিনটি বিধানসভা ভোটেই এখান থেকে জিতেছে তৃণমূল। গতবার প্রায় ১৩ হাজারের কাছাকাছি ভোটে বিজেপির মীনাদেবী পুরোহিকতে হারিয়েছিলেন তৃণমূলের বিবেক গুপ্তা। তবে ২০২৪ লোকসভা ভোটে এই আসন থেকে ৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল।
হিসেব করে এগোলে এই আসনে জিততে পারে বিজেপি। বিজয় দ্বৈরথে তৃণমূলকে টেক্কা দিচ্ছেন গেরুয়া প্রার্থী।
শশী পাঁজা (তৃণমূল)
পূর্ণিমা চক্রবর্তী (বিজেপি)
ঝুমা দাস (ফরওয়ার্ড ব্লক)
গত তিনটি বিধানসভায় এই আসনে জিতেছেন তৃণমূলের মন্ত্রী শশী পাঁজা। গতবার শশী পাঁজা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সন্দীপন বিশ্বাস-কে হারান প্রায় সাড়ে ২২ হাজার ভোটে। তবে লোকসভা ভোটে শ্য়ামপুকুরে লিড ছিল বিজেপির।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিরোধী ভোট একজোট হলে এখানে জেতার সম্ভাবনা আছে বিজেপির।
শ্রেয়া পান্ডে (তৃণমূল)
তাপস রায় (বিজেপি)
মৌসমু ঘোষ (ফরওয়ার্ড ব্লক)
এই আসন মানেই তৃণমূলের প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পান্ডে। আগে নাম ছিল বড়তোলা। ২০২১ বিধানসভা ভোটে এই আসনে সাধন পান্ডে ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে ছিলেন বিজেপির কল্য়াণ চৌবে-কে। সাধন পান্ডের মৃত্যুর পর এই আসনে উপনির্বাচন হয় ২০২৪ সালে। সেই উপনির্বাচনে ৭২ শতাংশ ভোট পেয়ে জেতেন সাধন পত্নী সুপ্তি পান্ডে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। দলের প্রাক্তন নেতা তাপস রায়ের দিকে তৃণমূলের নিচুতলার একাংশ থাকায় এই আসনে অঘটন ঘটাতে পারে বিজেপি। তবে অঙ্কের বিচারে শ্রেয়ার পাল্লা ভারী।
তৃণমূলের দাপুটে নেতা পরেশ পালের ঘাঁটি হল বেলেঘাটা। কিন্তু এবার সেখানে পরেশ প্রার্থী নন, তৃণমূল দাঁড় করিয়েছে দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে।
কুণাল ঘোষ (তৃণমূল)
পার্থ চৌধুরী (বিজেপি)
পারমিত রায় (সিপিএম)
শাহিনা জাহেদ (কংগ্রেস)
তৃণমূলের পরেশ পাল জিতেছিলেন প্রায় ৬৭ হাজার ভোটে।
তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া, প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের অসন্তোষ বিজেপিকে লড়াইয়ে রেখেছে।
অতীন ঘোষ (তৃণমূল)
রীতেশ তিওয়ারি (বিজেপি)
রাজিন্দার গুপ্ত (সিপিএম)
প্রায় ৫৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জিতেছিলেন অতীন ঘোষ। বিজেপির শিবাজী সিংহ রায় পেয়েছিলেন ৩০ শতাংশ ভোট।
এবারের ফ্যাক্টর
তৃণমূলের সংখ্য়ালঘু ভোটব্য়াঙ্কে চিড় ধরে কি না।