
ব্লু লাইন রুটে মেট্রোযাত্রীদের জন্য রয়েছে দারুন সুখবর। এবার থেকে কারেন্ট না থাকলে আর টানেলের মধ্যে দমবন্ধ অবস্থায় আটকে থাকতে হবে না যাত্রীদের। কারেন্ট না থাকলেও ব্যাকআপ সিস্টেমে চলবে মেট্রো। কীভাবে? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।
কলকাতা মেট্রোর মুকুটে জুড়ল আরও একটি নতুন পালক। দেশের প্রথম মেট্রো স্টেশনে বসল 'ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম'। ভারতের প্রথম মেট্রো পরিষেবা হিসেবে আবারও এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল কলকাতা মেট্রো। বুধবার ব্লু লাইনের ব্যস্ততম সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো 'ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম' (BESS)। ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এবং সমগ্র পূর্ব ভারতে এই ধরনের প্রযুক্তি এই প্রথম। এই অত্যাধুনিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী এস.এস. মিশ্র। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেট্রো রেলের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং 'মেট্রো রেলওয়ে উইমেনস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন' (MRWWO)-এর সভানেত্রী ও সদস্যগণ।
মেট্রো পরিষেবা সাধারণত উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। এই বিইএসএস (BESS) সিস্টেমটি মূলত বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং জরুরি অবস্থায় ব্যাক-আপ হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:-
বিদ্যুৎ সাশ্রয়: পিক আওয়ারে গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে সঞ্চিত ব্যাটারি শক্তি ব্যবহার করা যাবে।
পরিবেশবান্ধব: এটি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে মেট্রোকে আরও ‘সবুজ’ পরিবহণে রূপান্তরিত করবে।
জরুরি পরিষেবা: বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় এই সিস্টেম স্টেশনের লাইট, ফ্যান এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সাহায্য করবে।
ভারতের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হলো। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ২০২১ সালের 'ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অন অ্যাডভান্সড কেমিস্ট্রি সেল (ACC) ব্যাটারি স্টোরেজ' নীতি অনুসরণ করে একটি অত্যাধুনিক ৪ মেগাওয়াট ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) গড়ে তোলা হয়েছে। এই প্রকল্পটি মূলত ইনভার্টার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অ্যাডভান্সড কেমিস্ট্রি সেল (ACC) ব্যাটারির সমন্বয়ে গঠিত। গ্রিড বিপর্যয় বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এই সিস্টেমটি তাৎক্ষণিকভাবে সঞ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
মেট্রো চলাকালীন আচমকা বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা গ্রিড বিপর্যয়ের জেরে সুড়ঙ্গের মধ্যে ট্রেন আটকে পড়ার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এক নতুন এবং অত্যাধুনিক বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা (Battery Storage System) চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো, যদি কোনও কারণে গ্রিড সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে এই সঞ্চিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই আটকে পড়া ট্রেনটিকে সুড়ঙ্গের মাঝপথ থেকে পরবর্তী স্টেশনে অনায়াসেই নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। জানা গেছে, জরুরি অবস্থায় এই সিস্টেমে ট্রেনটি ঘণ্টায় ৫৫ কিমি বেগে চলতে সক্ষম হবে।
জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ট্রেন চলাচল নয়, মিলবে অন্যান্য সুবিধাও। নতুন এই প্রযুক্তির গুরুত্ব কেবল ট্রেন চলাচলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিদ্যুৎ না থাকলেও এই সিস্টেমের মাধ্যমে সুড়ঙ্গের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা। সুড়ঙ্গের ভেতরে বায়ু চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে।এনভায়রনমেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোর তাপমাত্রা ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল থাকবে।
এই নতুন পাওয়ার সিস্টেমটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর স্থায়িত্ব। জানানো হয়েছে, এই ব্যাটারিগুলির গড় আয়ু প্রায় ১৪ বছর, যা সাধারণ জেনারেটর বা ইনভার্টার ব্যাটারির তুলনায় অনেকটাই বেশি। এছাড়া এর নকশা অত্যন্ত কমপ্যাক্ট বা আঁটোসাঁটো, ফলে অল্প জায়গাতেই এটি সহজে বসানো সম্ভব। প্রচলিত ডিজেল বা পেট্রোল জেনারেটর প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করে পরিবেশের ক্ষতি করে। কিন্তু এই গ্রিন ব্যাটারি সিস্টেমটি উচ্চতর এনার্জি এফিসিয়েন্সি নিশ্চিত করে কার্বন ফুটপ্রিন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।