
কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক ৩০ বছর বয়সী নার্সের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, নাইট ডিউটির সময় হাসপাতালের একটি শৌচাগারের ভেতর থেকে তাঁর অচেতন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে। এন্টালি থানা সূত্রে খবর, এনআরএস আউট পোস্ট থেকে তাঁদের জানানো হয় যে হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (HDU)-এর ৩৩ নম্বর ঘরের সঙ্গে থাকা শৌচাগারে এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়েই কলকাতা পুলিশের ডিডি হোমিসাইড টিম এবং স্থানীয় থানার পুলিশকর্মীরা এনআরএস হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ওই নার্স একটি বিছানায় অচেতন অবস্থায় শুয়ে আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত নার্সের বয়স ৩০ বছর এবং তিনি কলকাতার দমদম এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
হাসপাতালের অন্য নার্সিং কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, ওই নার্স ১২ই আগস্ট রাত ৮টা নাগাদ নাইট ডিউটিতে যোগ দিয়েছিলেন। ডিউটিতে যোগ দেওয়ার পর রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি শৌচাগারে যান। বেশ কয়েক মিনিট কেটে গেলেও তিনি ফিরে না আসায়, অন্য কর্মীরা রাত ১০টা ২৭ মিনিট নাগাদ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। দেখা যায়, শৌচাগারের দরজা ভেতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে বন্ধ। সহকর্মীরা বারবার দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কোনও উত্তর আসেনি।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতালে উপস্থিত মহম্মদ সমশের আলম (২০) এবং শ্রেয়া গাইন (২০) নামে দুজন দরজা ভেঙে ফেলেন। তাঁরা দেখেন, ওই নার্স শৌচাগারের ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষা করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল ভালোভাবে খতিয়ে দেখে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ওই নার্সের দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। মৃত্যুর আসল কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, নাইট ডিউটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে শৌচাগারে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ওই নার্স কী করছিলেন এবং শৌচাগারের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল। আপাতত পুলিশ মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য তদন্তের পরেই এই ঘটনার আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।