Kolkata Police On Taratala Accident: তারাতলার গোডাউন ধসকাণ্ডের তদন্তে বড় পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে এবার ৫ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করল লালবাজার। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন ডিসি ডিডি। আজ সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানান, কীভাবে এগোবে তদন্ত, কারা থাকছেন সিটে এবং কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে এই বিশেষ দল।
আরও জানা গিয়েছে যে, তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ পুলিশের। গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার কাঠামো নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি কমল সামন্ত, শ্রমিক সরবরাহকারী ও ট্রাইমেক্স ঠিকাদার দিবাকর ভাণ্ডারি এবং পুরসভায় নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী আব্দুল হামিদ। বুধবার রাতেই গুদামের সুপারভাইজার-সহ প্রায় ন’জনকে আটক করে তারাতলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরার পর শম্ভুনাথ বেহরা-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত, তারাতলার মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর পরই হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত, সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা ৮ জনকে 'মৃত' বলে ঘোষণা করেন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণা চৌধুরী (৪৯), রোহিত চৌধুরী (২০), চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০), রাহুল চৌধুরী (১৭), পাপ্পু কুমার রজক (৪০), ঘি কুমার (১৭), আসগর হুসেন (৫৪) এবং সাহিল সরদার (১৭)। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মরদেহ ইতিমধ্যেই হাসপাতাল থেকে তাঁদের নিজ নিজ দেশের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, বাকিদের দেহ এখনও হাসপাতালেই রয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় আহত ২০ জন বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে, সিসিইউ (CCU) এবং ট্রমা কেয়ার ইউনিটের রেড জোনে চিকিৎসাধীন আছেন। আহতদের মধ্যে দূরবাসা মল্লহ, মণিচাঁদ কুমার, বিশ্ব প্রকাশ, রাজেশ রুইদাস এবং বোধন মুন্ডাসহ অন্যান্যদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।