
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল এবং পশ্চিমবঙ্গে দলের নেতাদের ওপর একের পর এক হামলার আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দিকে ডিম ছোড়া হল। কলকাতায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ডিম ছোড়াটা আসল বিষয় নয়, বরং জেড-ক্যাটাগরি নিরাপত্তা থাকা একটি বাসভবনের বাইরে কীভাবে এমন হামলা হতে পারে, সেটাই উদ্বেগের। তিনি বলেন, "গতকাল আমি যখন মমতা দিদির বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রেস মিট করছিলাম, আমার চোখ ছিল ক্যামেরার দিকে। সেই সুযোগে একজন এগিয়ে এসে ডিম ছুড়ে মারে। ডিম ছোড়াটা সমস্যা নয়, সমস্যা হল যে সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে হামলা চালাচ্ছে, যেখানে জেড-ক্যাটাগরির নিরাপত্তা রয়েছে। আমাদের দেখতে হবে এই হামলাটা কে চালাচ্ছে।"
কুণাল আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় যে ব্যক্তি জড়িত, সে এই সপ্তাহের শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে CID তল্লাশির সময় আনা নিরপেক্ষ সাক্ষীদের মধ্যে একজন ছিল।
কুণালের দাবি, "চার দিন আগে CID যখন মমতা জির বাড়িতে তল্লাশি চালায়, আমাদের কাছে খবর আছে যে, যে ব্যক্তি আমাকে আক্রমণ করেছে, সে আসলে সেই তল্লাশিতে আনা নিরপেক্ষ সাক্ষীদের একজন ছিল। তাহলে কি সে রেইকি করতে এসেছিল? তাকে কে এনেছিল? CID এনেছিল।"
রাজ্যে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তিনি স্পিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন যে তিনি একজন অনুগত বিরোধী দলনেতাকে সুবিধা করে দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, "সর্বদলীয় বৈঠক নিয়ে আমাদের কাছে কোনও খবর নেই। আমার মনে হয় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছেও নেই। এটা স্পিকারের জাদু যে যা হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি, বরং বেছে বেছে কাজ হয়েছে। একজন ছায়া ব্যক্তিকে বিরোধী দলনেতার চেয়ার দেওয়া হয়েছে। স্পিকার এমন একজন বিরোধী দলনেতা চান যিনি তৃণমূল নেতাদের ওপর হামলা নিয়ে কিছু করবেন না। স্পিকার একজন 'ইয়েস স্যার' বিরোধী দলনেতা চেয়েছিলেন।"
এদিকে, তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া নেতা ঋজু দত্ত এই ঘটনার নিন্দা করে একে একটি 'গুরুতর বিষয়' বলে উল্লেখ করেছেন। ঋজু বলেন, "এটা একটা গুরুতর বিষয়, আর উনি অভিযোগও দায়ের করেছেন। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। এখানে কুণাল ঘোষ ব্যক্তি হিসেবে মূল বিষয় নন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেত্রীও জেড-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। এখানে দলের বৈঠকে যোগ দেওয়া একজন তৃণমূল নেতা মিডিয়ার সামনে কথা বলার সময় আক্রান্ত হচ্ছেন। এটা শুধু শারীরিক আক্রমণ নয়, এটা একটা মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণও।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমার বিশ্বাস, শুভেন্দু অধিকারী এবং বাংলার বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এটা সমর্থন করেন না।"