
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে আক্রমণের মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি দেশে 'এক দেশ, এক নেতা, এক দল' ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে। এর জন্য তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে বাংলার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে, এমনকি ভোটার তালিকা থেকেও নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি পোস্টে মমতা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক পদগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করার জন্য বিভিন্ন এজেন্সি এবং প্রতিষ্ঠানকে 'অস্ত্র' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মমতা লেখেন, "আজ আমরা যা দেখছি, তা নজিরবিহীন, দুর্ভাগ্যজনক এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর সরাসরি আক্রমণ। 'এক দেশ, এক নেতা, এক দল'-এর নেশায় বিজেপি তাদের জন-বিরোধী উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক পদকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রে পরিণত করেছে।"
আজ আমরা যা দেখছি, তা নজিরবিহীন এবং দুর্ভাগ্যজনক। এটা সরাসরি গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। 'এক দেশ, এক নেতা, এক দল'-এর নেশায় বিজেপি প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক পদকে অস্ত্রে পরিণত করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সংস্থা, জাতীয় কমিশন এবং মিডিয়ার একাংশকে (যাদের তিনি 'গোদি মিডিয়া' বলেছেন) রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "বছরের পর বছর ধরে ওরা বাংলার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সি, জাতীয় কমিশন, দলদাস গোদি মিডিয়া এবং বিচারব্যবস্থার একটি অনুগত অংশকে লেলিয়ে দিয়েছে। ওরা ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম মুছে ফেলার জন্য 'ভ্যানিশ কমিশন' ব্যবহার করছে।"
মমতার দাবি, বিজেপি বাবাসাহেব আম্বেদকরের তৈরি সংবিধানের বদলে নিজেদের দলীয় ইস্তেহারকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
তিনি বলেন, "ওরা এটাই চায়। ওরা বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধানকে নিজেদের পার্টির ম্যানিফেস্টো দিয়ে বদলে ফেলতে চায়। আমি এটা হতে দিইনি। আমি এটা হতে দেবও না।"
কলকাতার ধর্মতলায় তাঁর দলের ধর্না প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষকে "অপমান, ভয় দেখানো এবং হেনস্থা" করার চেষ্টার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ।
মমতা বলেন, "ধর্মতলায় আমাদের ধর্না প্রতিটি বাংলা-বিরোধী ষড়যন্ত্রের জবাব, যা এই রাজ্যের মানুষকে অপমান করতে, ভয় দেখাতে এবং অত্যাচার করতে চায়।" দিল্লিতে থাকা বিজেপি নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষের ভালোর চেয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও যোগ করেন, "বিজেপির একমাত্র অগ্রাধিকার হল ক্ষমতা। আমার অগ্রাধিকার বরাবরই মানুষ। দিল্লির এই জমিদাররা এই মহান ভূমিকে দমন করার মিশনে কখনও সফল হবে না।"
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, বাংলা ঔপনিবেশিক শাসনের শিকল ভাঙতে জেগে উঠেছিল। বিজেপির অবশ্যম্ভাবী পতন নিশ্চিত করতে বাংলা আবার জেগে উঠবে। এই সব মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন দার্জিলিং-এ অনুষ্ঠিত নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অনুষ্ঠানের স্থান নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে হতাশ হন।