
Netaji Jayanti: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose) রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে ফেলার ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য লড়াই চালানোর পাশাপাশি পূজার্চনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। দুর্গাপুজো আয়োজনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। সচেতনভাবেই তিনি পুজো ও রাজনীতিকে আলাদা করে রাখতেন। তবে দুর্গাপুজোর মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করা, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল করার কাজ চালিয়ে যেতেন তিনি। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন নেতাজি। ফলে তাঁর পক্ষে রাজনীতি ও ধর্মকে আলাদা করে রাখা সম্ভব হয়েছিল। তাঁর ভাবনাতেই বাংলায় দুর্গা প্রতিমার কাঠামোর ধরন বদলে যায়। এখন বেশিরভাগ মণ্ডপেই যে কাঠামোর প্রতিমা দেখা যায়, তার সূচনা করেছিলেন নেতাজি। তিনি অবশ্য পরিকল্পনা করে এরকম কিছু করেননি। এক বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তারপর এই ধারার প্রচলন হয়।
বাংলায় দুর্গাপুজোর প্রতিমা দীর্ঘদিন ধরে হত একচালার। একই কাঠামোর মধ্যে থাকতেন দুর্গা, মহিষাসুর, সিংহ, লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী, পেঁচা, ইঁদুর, ময়ূর ও রাজহাঁস। কিন্তু নেতাজি ১৯৩৮ সালে কুমোরটুলি সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির সভাপতি হওয়ার পর এক ঘটনায় প্রতিমার কাঠামো বদলে যায়। সেবার চতুর্থীর দিন মণ্ডপে প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। কিন্তু পঞ্চমীর দিন আগুনে পুড়ে যায় মণ্ডপ ও প্রতিমা। নেতাজি তখন মৃৎশিল্পী গোপেশ্বর পালকে প্রস্তাব দেন, আরও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে এক রাতের মধ্যেই নতুন করে প্রতিমা তৈরি করা হোক। একেকজন মৃৎশিল্পী আলাদা কাঠামোয় দুর্গা, লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করুন। সেই থেকে এই ধারা চালু হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের জন্য নেতাজি যেভাবে প্রতিমা নির্মাণ করাতে বাধ্য হয়েছিলেন, এখন বাংলার বেশিরভাগ দুর্গাপুজোতে সেভাবেই প্রতিমা নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ধর্মের সঙ্গে মিশে গিয়েছে রাজনীতি। নেতাজির দেখানো পথে চলতে পারছেন না এখনকার রাজনীতিবিদরা।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।