OBC Amendment Bill: বিধানসভায় পাস ওবিসি সংশোধনী জোড়া বিল, অধিবেশনে রইলেন না ঋতব্রতের তৃণমূলরা

Published : Jun 29, 2026, 06:29 PM IST
West Bengal assembly proceedings are underway as finance minister Swapan Dasgupta presents the state's first full budget for FY 2026-27

সংক্ষিপ্ত

OBC Amendment Bill: বিরোধীদের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিধানসভায় পাস হয়ে গেল জোড়া ওবিসি সংশোধনী বিল। হঠাৎ কেন পাস করানো হলো এই বিলকে? কী বলছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার? বিস্তারিত তথ্যের জন্য পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

OBC Amendment Bill: বাংলায় ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে সোমবার বিধানসভায় পাশ হল দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল। সরকারি সূত্রে খবর, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আইনি অসঙ্গতি দূর করতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই সংশোধনীর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান এসসি অ্যান্ড এসটি) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পেশ করেন।

কী এই জোড়া ওবিসি সংশোধনী বিল?

সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে ওবিসি ক্যাটেগরি ‘এ’-তে অন্তর্ভুক্ত ৬৬টি জনগোষ্ঠীর তালিকা বহাল রাখা হয়েছে তবে বামফ্রন্ট সরকারের শেষ পর্বে এবং পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ক্যাটেগরি ‘বি’-তে অন্তর্ভুক্ত ১১৩টি জনগোষ্ঠীর তালিকা সংশোধনী বিল থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে।

মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ বলেন, “কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই বিল আনা হয়নি। পূর্বতন সরকার ভোটের কথা মাথায় রেখে কিছু বিশেষ জাতিগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছিল। আমরা রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়ে সেই তালিকার পুনর্যাচাইয়ের জন্যই এই সংশোধনী বিল এনেছি।”

তিনি আরও বলেন, ‘’১৯৯৩ সালে ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে বামফ্রন্ট সরকার একটি সংশোধনী আনে এবং সেই ধারাবাহিকতায় তৃণমূল সরকার আরও ১১৩টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সেই কারণেই আদালত ওই অন্তর্ভুক্তিগুলি বাতিলের নির্দেশ দেয়। সরকার সেই নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আইন প্রণয়ন করছে।'' 

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এ কমিশনের ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। বিল অনুযায়ী, কোনও জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন কমিশন পরীক্ষা করবে এবং অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগও শুনবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল, এই বিষয়ে কমিশনের সুপারিশ সাধারণভাবে রাজ্য সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক (অর্ডিনারিলি বাইন্ডিং) করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশনের সদস্য-সচিবের পদে অন্তত যুগ্মসচিব বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার আধিকারিক নিয়োগ এবং সদস্যদের কার্যকালের বিষয়েও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।

বিলের কড়া বিরোধিতা করেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর অভিযোগ, সংশোধনী বিলের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বিলটি নিয়ে ডিভিশন বা ভোটাভুটির দাবি জানান। স্পিকার রথীন্দ্র বসু সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

ভোটাভুটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা অংশ নিলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একাংশ কক্ষত্যাগ করেন। শেষ পর্যন্ত বিলের পক্ষে ১৮৬টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। ভোটদানে বিরত থাকেন ৬ জন বিধায়ক। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দুই সংশোধনী বিলই বিধানসভায় গৃহীত হয়।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

OBC বিলের নামে শুধুই মুসলিম তোষণ করেছে তৃণমূল? ভরা বিধানসভায় সব ফাঁস করলেন অরিজিৎ বক্সী!
Kolkata News: বর্ষার মরশুম শুরু হতেই শহরে ফের বিপর্যয়, কলকাতায় বাড়ি ভেঙে বিপত্তি