
Partha Chatterjee News: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা মনোনয়নের জাল সই কাণ্ডে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা SIT গঠন নিয়ে সোমবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার বিষয়ে পুলিশের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ 'অনুচিত' এবং ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "এই ব্যাপারে পুলিশ কীভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে? এটাই আমার মূল প্রশ্ন। আর নতুন স্পিকার যিনি হয়েছেন, তাঁর সঙ্গে যে কর্মীরা কাজ করেন, তাঁরা নিয়মকানুন অনেক বেশি জানেন। তাহলে স্পিকার কী করবেন?" তিনি আরও বলেন, "আমি মুখ্যমন্ত্রী এবং স্পিকার দুজনকেই বলব, এটা বোঝা উচিত যে এই পথটা ঠিক নয়। আপনারা কি বিধানসভার ওপর পুলিশকে ছড়ি ঘোরাতে দেবেন? সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।"
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক সূত্র সোমবার জানিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্যের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট বা CID একটি পাঁচ সদস্যের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠন করেছে। বিরোধী দলনেতা (LoP) নিয়োগের জন্য বিধানসভার স্পিকারকে পাঠানো একটি মনোনয়ন পত্রে এই জাল সইয়ের অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই উচ্চ-পর্যায়ের SIT-এর নেতৃত্বে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG), যাতে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হয়। এদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ CID তাদের ভবানী ভবনের সদর দফতরে তলব করেছিল। দলের মূল প্রস্তাবের কপি জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি হাজিরা দেননি। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে এজেন্সিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মামলায় তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী আইন তার নিজের পথে চলবে এবং "যারা সই জাল করেছে, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।"
এই বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে হল, তার একটি টাইমলাইনও তুলে ধরেন অধিকারী। তিনি জানান, ৯ মে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে ডেপুটি লিডার এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার প্রস্তাব দেন। এরপর ২০ মে ৭০ জন বিধায়কের সই সহ আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়।
কিন্তু, তৃণমূলের দুই বিধায়ক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন যে, বিধানসভার পরিষদীয় দলের বৈঠকে এমন কোনও প্রস্তাব পাশই হয়নি। এরপর বিধানসভার স্পিকারের হস্তক্ষেপে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এবং মামলাটি CID-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।Partha Chatterjee News: