আরজি কর কাণ্ডের পরে কেটে গেছে ২টি বছর। এতদিন পরে সেই ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলত্যাগী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শান্তনু সেন। তিনি জানিয়েছেন, অভয়াকাণ্ডে তাঁর কাছেও অনেক তথ্য রয়েছে। প্রয়োজনে সেইসব তথ্য দিয়ে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। শান্তনু সেন আরও বলেছেন, তিনি নিশ্চিত যে সেই দিনের ঘটনায় সঞ্জয় একা ছিল না।
শান্তনু সেন বলেছেন, 'আমি জানি সেদিন সঞ্জয় রায় একা ছিল না। আরও অনেকে ছিল। আমি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখেছি খুব ভালো করে। তাতে সব উল্লেখ ছিল। দরকারমত সেইসব তথ্য দিয়ে আমি তদন্তে সহয়োগিতা করবো। আগেও সহযোগিতার কথা বলেছি। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি।' শান্তনু সেন করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর নিশানায় রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ, বিখ্যাত চিকিৎসক সুদীপ্ত রায় , আরজি কর হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। উত্তরবঙ্গ লবির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এই একই দাবি জানিয়েছিলেন আরজি কর হাসপাতালে নিহত চিকিৎসকের মা ও বাবা। তাঁদেরও অভিযোগ ছিল অভয়াকাণ্ডে সঞ্জয় রায় একা জড়িত ছিল না, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাত ছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি কর হত্যাকাণ্ডের ফাইল খুলেছেন। এবার নতুন করে তদন্ত হবে। সত্য সামনে আসবে বলেও আশা করেছে অভয়ার পরিবার।
২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়। এই ঘটনার পরে দলের অনেক নেতাই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শান্তনু সেন। তিনি সাংসদও ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠবৃত্তে তাঁর ওঠাবসা। রাজ্যে ডাক্তারদের সংগঠনেরও কিছু দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। যদিও আরজি কর হত্যাকাণ্ডের পরেও শান্তনু সেন মুখ খুলেছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, 'আমি যখন দ্বিতীয়বার আরজি করের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হই সেই সময়ই বুঝতে পেরেছিলাম যে আরজি করের মধ্যে একটা ভয়ঙ্কর আঁতাত রয়েছে। তাতে মদত ছিল অতীন ঘোষ, সুদীপ্ত রায়, সন্দীপ ঘোষের মধ্যে।' তিনি আরও বলেন, সেইসব তথ্য জোগাড় করে তিনি নবান্নে নালিশও জানিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদতে তা হয়নি।
শান্তনু সেন আরও বলেন, '‘তখন আমার মেয়ে আর জি করে পড়ছিল। এমবিবিএস শেষ পর্যায়ে। কিন্তু তখনকার অধ্যক্ষ বারবার ওকে হুমকি দিত, ফেল করিয়ে দেবে। কলেজের কেউ ওর সঙ্গে ল্যাবে কাজ করত না, ক্যান্টিনে খেতে যেত না, ঘুরতে যেত না। বুঝতে পারছিলাম, ওকে টার্গেট করা হচ্ছে। এমনকী এমবিবিএস শেষ হওয়ার পর সার্টিফিকেটও না দিতে পারত। ভাগ্যিস ও বাড়ি থেকে যাতায়াত করত। এই অবস্থাতেও আমি দলকে বারবার ওখানকার আর্থিক দুর্নীতির কথা, অন্যান্য বেআইনি কাজের কথা বলেছিলাম। এমন নয় যে আজ বিজেপি সরকার এসেছে বলে আমি এত কিছু বলছি।'