
WB SIR Update News: এসআইআর-এর তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা এবার প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। প্রকাশ্যে টাঙাতে হবে সেই তালিকা। ৩ দিনের মধ্যে তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তালিকা প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে শুনানিতে ডাকতে হবে। শুনানিতে কারও কাছ থেকে কোনও নথি গ্রহণ করা হলে, তার রশিদ দিতে হবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে। তৃণমূলের করা মামলায় নির্বাচন কমিশনকে সোমবার এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিমকোর্ট।
সেইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ শুনানি চলাকালীন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসাবে বুথ স্তরের এজেন্টদের (BLA) থাকতে দেওয়ার যে দাবি তৃণমূল তুলেছিল, তা-ও মেনে নিয়েছে। অর্থাৎ এবার থেকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারবেন বিএলএ-রাও।
সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে কমিশনকে। প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা করে কাউন্টার খুলতে হবে। সেখানেই সাধারণ মানুষ নথি জমা দিতে এবং তালিকা সংক্রান্ত আপত্তি জানাতে পারবেন। শুনানিতে ভোটারদের থেকে যে সমস্ত নথি নেওয়া হবে তার রশিদ দিতে হবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে। সেইসঙ্গে এই গোটা প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ রাজ্যকেও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যকে পর্যাপ্ত কর্মী দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিসে বসে সেই কর্মীরা ভোটারদের অভিযোগ শুনবেন। প্রত্যেক জেলার জেলাশাসককে কঠোরভাবে এই নির্দেশ মানতে হবে। ভোটার চাইলে বিএলএ, পরিবারের সদস্য, বা অনুমতি দিয়ে অন্য কোনও প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি জমা দিতে পারবেন। তবে সেই প্রতিনিধির কাছে ভোটারের স্বাক্ষর করা একটি অনুমতিপত্র থাকতে হবে।
অন্যদিকে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়, স্পষ্ট জানাল নির্বাচন কমিশন।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ২০২৬-এ মাধ্যমিক (ক্লাস X) পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে না—এই মর্মে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাল নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ECI)। বুধবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী SIR প্রক্রিয়ায় যে নথিগুলি যাচাইয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য, তার তালিকায় মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড অন্তর্ভুক্ত নয়। সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে পাঠানো প্রস্তাব খতিয়ে দেখার পর তা গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে কমিশন মত দিয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসারেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ পরিচালিত হবে এবং এর বাইরে কোনও নথিকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থানে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।