
সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুন সংক্রান্ত নথি আদলতে পৌঁছে দিতে পারল না পুলিশ। আদালতে পৌঁছাতে পারলেন না তদন্তকারী আধিকারিক বা IO। আর ঠিক সেই কারণে পুলিশের হাতে ধরা পড়েও মঙ্গলবার সন্ধ্য়ায় জামিন পেয়ে গেলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। মাত্র ১০০০ টাকা ব্যক্তিগত বন্ডে তাকে জমিন দেয় আদালত। জামিন পেয়ে রায়গঞ্জের বাড়িতে ফিরে গেলেন প্রশান্ত বর্মণ।
প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে মামলা
প্রশান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ২৮১, ১২৫বি এবং মোটর ভেহিকল আইনের ১৮৪, ১৮৫ ধারায় এফআইআর রুজু হয়। তীব্র গতিতে, আইনের তোয়াক্কা না করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার প্রশান্ত বর্মণকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়। যখন প্রশান্তকে আদালতে হাজির করানো হয় তখন বিচারক নথি চান। মঙ্গলবার সন্ধ্য়ে পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেই নথির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। কিন্তু নথি না পৌঁছানোয় প্রশান্তর জামিন হয়। বাড়ি ফিরে যায় অপসারিত বিডিও।
পথ নিরাপত্তা বিধি ভেঙে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন প্রশান্ত । অভিযোগ সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকোপার্ক থানায় আচমকাই প্রশান্তর গাড়ি প্রথমে এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। পথচারী ছিটকে গিয়ে ওই স্কুটার আরোহীর গায়ে পড়েন বলে অভিযোগ। ওই ব্যক্তির পায়ে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। স্কুটার আরোহীই প্রশান্তের গাড়ি আটকান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রশান্ত। বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। তার বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। হাই কোর্ট সেই আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও এত দিন পুলিশের নাগালের বাইরেই রয়ে গিয়েছিলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হলেও জামিন পেয়ে গেলেন তিনি।