Suvendu Adhikari On Goonda Daman Bill: বঙ্গে গুণ্ডাগিরি রুখতে তৃণমূল জমানার দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ আর তোলাবাজির চ্যাপ্টার ক্লোজ করতে এবার মাস্টারস্ট্রোক বর্তমান সরকারের। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ হলো ঐতিহাসিক একটি বিল। জানুন আরও বিশদে…
তৃণমূল জমানার দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ আর তোলাবাজির চ্যাপ্টার ক্লোজ করতে এবার মাস্টারস্ট্রোক বর্তমান সরকারের। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ হলো ঐতিহাসিক ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’, যা রাজ্য রাজনীতিতে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিধানসভায় এই বিলটি পেশ করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। দুর্নীতি ও লুটের সম্পত্তি উদ্ধার করে রাজ্যের বুকে আইনের শাসন ফেরানোই এই বিলের মূল লক্ষ্য।
25
বিধানসভায় গুণ্ডাদমন বিল পেশ
জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি ছোট-বড় বহু তৃণমূল নেতা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চোখ ধাঁধানো প্রতিপত্তি দেখে চোখ কপালে উঠেছে বাংলার মানুষের। রাতারাতি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। এই আবহেই সোমবার বিধানসভায় পেশ ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’, যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশ করলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা।
35
পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষা (সংশোধনী) আইন, ২০২৬
এই সংশোধনীর মাধ্যমে রাজ্যে একটি 'ক্লেম কমিশন' গঠন করা হবে সম্পত্তি দখল বা ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ শুনে এই কমিশন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে সেই টাকা অপরাধীদের সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ফলতা থানা ভাঙচুর ও পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার মত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন আইন আনা হচ্ছে অপরাধের মূলচক্রী, অর্থদাতা, বেআইনি অস্ত্র ও মাদক কারবারি এবং মানব পাচারকারীদের সরাসরি 'গুন্ডা' হিসেবে চিহ্নিত করা হবে এই সমস্ত অপরাধকে 'জামিন অযোগ্য' ধারার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে
বিধানসভায় গুণ্ডা দমন বিল পেশ হতেই উত্তেজনা। বিলের বিরোধিতায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য শুরু করতেই বিধানসভা কক্ষে হট্টগোল শুরু। কার্যত বক্তব্য পেশই করতে পারেননি তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক। বলতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তারপরই বিলের সপক্ষে বলতে গিয়ে তৃণমূল জমানাকে কটাক্ষ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। উস্কানিমূলক মন্তব্য করলেও তাও গুন্ডাদমন বিলের আওতায় আসবে। বিধানসভায় স্পষ্ট করলেন অগ্নিমিত্রা।
55
গুন্ডা, তোলাবাজ- সমাজবিরোধীদের জন্য নয়া আইন
এই বিল পাস করিয়ে লুটের সম্পত্তি উদ্ধার করা এবং পুলিশের হাত শক্ত করাই যে সরকারের আসল লক্ষ্য, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা’ চাপাতে পারে। কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও, সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইন মেনে চলা সাধারণ মানুষের ভয়ের কোনও কারণ নেই। এই আইন কেবলই গুন্ডা, তোলাবাজ আর সমাজবিরোধীদের জন্য। এখন দেখার, এই নতুন আইনের হাত ধরে বাংলায় আইনের শাসন কতটা মজবুত হয়।