
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্য তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকারের সুফল ইতিমধ্যেই মানুষ দেখতে পাচ্ছে। কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প, জনকল্যাণমূলক যোজনা এবং জাতীয় সুরক্ষার উদ্যোগের কথা বিস্তারিতভাবে জানান। তিনি বলেন, "আমরা মোদীজির নেতৃত্বে ও তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে কাজ করব। এই অল্প সময়েও আমরা কিছু কাজ করেছি। মানুষ 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকারের সুবিধা দেখতে শুরু করেছে এবং আগামী দিনে এই সুবিধা আরও স্পষ্ট হবে।"
জাতীয় সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "জাতীয় সুরক্ষার বিষয়ে আমরা বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করেছি। এই প্রক্রিয়া রোজই চলছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে 'চিকেনস নেক' করিডোর সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ ইতিমধ্যেই বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। আপনারা দেখেছেন, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ এটা জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্ন।"
শুভেন্দু আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে আগে আটকে থাকা বেশ কিছু প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনগণনা প্রক্রিয়া, জল জীবন মিশনের জন্য ৩৯,০০০ কোটি টাকার চুক্তি এবং আয়ুষ্মান ভারত যোজনা। তিনি বলেন, "দ্বিতীয়ত, আমরা বাংলায় আগে আটকে থাকা কিছু পদক্ষেপ চালু করেছি, যেমন জনগণনা প্রক্রিয়া। জল জীবন মিশনের জন্য ৩৯,০০০ কোটি টাকার চুক্তি সই হয়েছে এবং দিল্লিতে আয়ুষ্মান ভারতের চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ১.৪৩ কোটি পরিবারকে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা 'প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর' প্রকল্পও গ্রহণ করেছি, যার ফলে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বিদ্যুতের খরচ আর থাকবে না।"
এই সাংবাদিক বৈঠকের জাতীয় স্তরের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, "এই সাংবাদিক বৈঠক সারা দেশে, জাতীয় স্তরে এবং প্রতিটি রাজ্যে হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাফল্য তুলে ধরা। তিনি দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন এবং গত বারো বছরে যে ব্যাপক কাজ হয়েছে, সেদিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।"
প্রেস রুমের বাইরে মোদী সরকারের প্রকল্পগুলি তুলে ধরার জন্য একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, "আমরা প্রেস রুমের বাইরে একটি প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করেছি, যেখানে মোদীজির অসংখ্য কর্মসূচি, প্রকল্প এবং যোজনা তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, কলকাতার মানুষের জন্য মেট্রো পরিষেবা, রাজ্যের মানুষের জন্য বন্দে ভারত ট্রেনের বিশেষ সুবিধা এবং কল্যাণী এইমস-এ চিকিৎসার সুবিধা।" মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, ৫৪ লক্ষ কৃষক সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে পিএম কিষাণ সম্মান নিধির টাকা পাচ্ছেন, ৩ লক্ষ মহিলা 'লাখপতি দিদি' হয়েছেন, ৭৪ লক্ষ শৌচাগার তৈরি হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে বাংলায় ৪০ লক্ষ মানুষকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে।