ডিজে বাজাবে' মন্তব্য সংক্রান্ত একটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কন্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত। আগামী ৮ জুলাই তাঁর এই নমুনা সংগ্রহ করা হবে। যদিও অভিষেক এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে গেলেও কোনও অন্তর্বর্তীকালীন সুরাহা পাননি।
একের পর এক অস্বস্তি বেড়ে চলেছে। এবার দুর্ভোগ আরও বাড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আগামী ৮ জুলাই তাঁর কন্ঠস্বরের নমুনা নেওয়া হবে। এমনই নির্দেশ দিল কোর্ট। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় তাঁর করা ডিজে বাজাবে মন্তব্য নিয়ে চলছে তদন্ত। সেই মামলাতেই রায় দিল আদালত।

এপ্রিল মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের প্রচারে বলেছিলেন, ৪ তারিখের পর ডিজে বাজবে। যা হুমকি এবং হিংসায় প্ররোচনামূলক হওয়ার অভিযোগে বিধাননগর উত্তর থানার তাঁকে নামে একটি FIR দায়ের হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্ঠস্বরের নমুনা নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আদালত তাঁকে ৮ জুলাই কন্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এদিকে পুলিশের ভয়েস স্যাম্পেল নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন। তিনি FIR টি বাতিল করারও আবেদন জানান। তবে, পুলিশের নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে করা তাঁর আবেদনে হাইকোর্ট কোনও অন্তর্বর্তীকালীন সুরাহা মঞ্জুর করেনি। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে ২১ মে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, একজন সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক যদি এই ধরের মন্তব্য করেন, তাহলে চিন্তাকরে দেখুন, ভোটের ফল অন্যরকম বলে কী হত? তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তৃণমূল সাংসদকে। একজন সাংসদ হয়ে কীভাব তিনি এই মন্তব্য করলেন? এরপরই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, আদালতের নির্দেশ ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে না পুলিশ। ৩০ জুলাই বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে রক্ষাকবচ।
এদিকে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে ইতিমধ্যেই বিচারধীন একটি অনুরূপ মামলার কথা উল্লেখ করে পিটিশনটি অপর একটি বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। প্রসঙ্গত, কন্ঠস্বরের নমুনা দিতে, মঙ্গলবার বিধাননগর আদালতের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইনও পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হাজির হননি অভিষেক। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আদালত তাঁকে ৮ জুলাই কন্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।


