
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামে ঠিক কতজন শ্রমিক ছিলেন তার কোনও হিসেবেই নেই। কারণ গুদামে কর্মরতদের উপস্থিতির হিসেব রাখা হতো না। অভিযোগ গুদামে কর্মরতদের কোনও রেজিস্টার ছিল ছইল না। তাই এখনও পর্যন্ত ঠিক কতজন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে রয়েছে তার কোনও হিসেব নেই কলকাতা পুলিশের হাতে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১১ জনের মৃতদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহতের সংখ্যা ১৯। আহতের চিকিৎসা চলছে এসএসকেএম হাসপাতালে।
লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারাতলার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করাহয়েছে। মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আজগর হুসেনের দেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালেই। বাকি এফআইআর-এ নাম থাকা ৪ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিরা হল, অয়ন ট্রেডার্সের বিল্ডিং সুপারভাইজার মহম্মদ গুলজার। তার সংস্থা গুদামের ছাত তৈরির কাজে যুক্ত ছিল। বন্দরের ওই জমি যে লিজ নিয়েছিল সেই বেহরা ব্রাদার্সের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাও ধৃত। পুলিশ গ্রেফতার করেছে লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক কমল সামন্ত, শ্রমিক সরবরাহকারী দিবারক ভাণ্ডারীকে। কলকাতা পুরসভার নকসা অনুমোদনের দালাল আব্দুল হামিকও পুলিশের জালে।
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জানিয়েছেন, তারাতলাকাণ্ডে একাধিক দল কাজ করছে। কাদের জেরা করা হবে তারও একটি প্রাথমিক তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে তদন্তকারীরা। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে যাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলবে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে যেসব ফোন উদ্ধার করা হয়েছে তাদের ডাকা হতে পারে জেরার জন্য। ফোন থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেলে বা প্রয়োজনীয় নাম পাওয়া গেলে তাদেরও জেরা করা হতে পারে।
কলকাতা পুরসভার কাছে তারাতলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে পুলিশ। কলকাতা পুরসভার আধিকারীকদের জেরা করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন। কলকাতা ও শহরতলিতে সমস্ত নির্মাণকাজ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।